প্রাণিদেহের ভেতরের হাড় ও চামড়ার মধ্যবর্তী নরম এবং কোমল অংশ হলো গোশত। আর এ গোশতকে অনেকে মাংস বলেন। বিষয়টি নিয়ে একটা কথা সমাজে প্রচলন রয়েছে। অনেকে বলেন, ‘গোশতকে মাংস বলা যাবে না। কারণ, এটি মায়ের অংশ।’
তাছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে সমাজে একটি কথার প্রচলন আছে- তারা গরুকে মা বলে থাকে। তাই গরুর গোশতকে ‘মাংস’ বা মায়ের অংশ বলে পরিচয় দেওয়া হয়। তারা যদি ওই বিশ্বাস থেকে গরুর গোশতকে মাংস বলে থাকে, তাহলে খাসি বা মহিষের গোশতকে কেন মাংস বলা হয়? এগুলোকে তো তারা মা বা ধর্মীয় প্রতীক মনে করেন না। সুতরাং এটি একটি প্রচলিত কথা।
অভিধান অনুযায়ী মাংস শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত (মন+স) থেকে। এর অর্থ জীবদেহের অভ্যন্তরের হাড় এবং চামড়ার মধ্যবর্তী নরম ও কোমল অংশ। মাসংকে মাংশ বা হিন্দুদের মায়ের (গরুর) অংশ মনে করা সঠিক নয়। সুতরাং গরু ও অন্য হালাল পশুর গোশতকে মাংস বলায় দোষ নেই।
ইসলামি গবেষকদের মতে, গোশতকে মাংস বলতে কোনো অসুবিধা নেই। এতে গুনাহ হবে না। ইসলামে এ ধরনের প্রচলিত শব্দ বা প্রতিশব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এক ভিডিওতে বলেছেন, অনেকে জোর দিয়ে বলেন যে, গোশতকে মাংস বলা যাবে না। বললে গুনাহ হবে। কারণ, মাংস হলো মায়ের অংশ। হিন্দুরা গরুকে মায়ের অংশ মনে করে। সেজন্য তারা তাকে মা বলে। কিন্তু আমরা তো মায়ের অংশ হিসেবে গরুর অংশকে মাংস বলি না। তাই মাংস বললে গুনাহ হবে না।
