রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার দেড় দশক আগের একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে দেশে থাকা তাঁর যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামির অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করেন। রায় কার্যকর করতে সাজা পরোয়ানাসহ পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ মিরপুর মডেল থানায় জাকির হোসেন খানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি (মামলা নং ৫৮(৩)/২০০৯) দায়ের করা হয়। ঘটনার পর দীর্ঘ ১৫ বছর তদন্ত স্থবির থাকার পর, ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। ওই বছরেরই ১৫ জুলাই আসামির অনুপস্থিতিতে মামলার বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং আদালত প্রথম দফায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার ১৭ বছর পর গত ১৮ জানুয়ারি আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
মামলায় অভিযুক্ত জাকির হোসেন খান কেবল মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক শীর্ষ নেতাই নন, তিনি গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পিতা মরহুম শামসুদ্দিন খানের হাত ধরে তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠে; যিনি গোপালগঞ্জে বিএনপির গোড়াপত্তন ও তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি ঢাকার ব্যবসায়ী মহলেও খান পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অবস্থান রয়েছে। পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘শামীমা ফ্যাশন’, বিপণিবিতান ‘অর্কিড বাজার’, ‘চেতনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এবং ‘ভ্যাকেশন লিফটার্স’-এর মাধ্যমে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব গড়ে উঠেছে।
শারীরিক অক্ষমতা ও নিরাপত্তার কারণে জাকির হোসেন খান বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
আদালতের এই আদেশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকাকালে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি চলাচলের ক্ষমতা হারান এবং সম্পূর্ণ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ দেড় দশক পর ২০২৪ সালে তড়িঘড়ি করে চার্জশিট প্রদান, বিচার শুরু এবং পরবর্তীতে একজন গুরুতর অসুস্থ ও পঙ্গু ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার চালিয়ে রায় দেওয়া মৌলিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
