ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেও দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরির পর নাজমুল হোসেন শান্তও ৮৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিডও পেরিয়েছে ১৫০ রান।
ফলে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া নানাভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে নাথান লায়নের বোলিংয়ের সময় শর্ট লেগে অদ্ভুত এক কৌশল নিয়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড, যা নজর কেড়েছে ধারাভাষ্যকারদের।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৮৫ রান তুলেও বাংলাদেশের মাত্র একটি উইকেট নিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। তাই উইকেটের জন্য তাদের মরিয়া চেষ্টাটা ফিল্ডিংয়েও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে লায়ন যখন আক্রমণে এসেছেন, তখন শর্ট লেগে থাকা ওয়েদারাল্ডকে বারবার নিজের অবস্থান বদলাতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্তর ব্যাট থেকে ইনসাইড এজ হয়ে বল শর্ট লেগে আসতে পারে-এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখেই যেন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওয়েদারাল্ড। লায়ন বল করার সময় প্রতিটি ডেলিভারির আগে বোলারের সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ধাপ করে ব্যাটারের দিকে এগিয়ে আসছিলেন তিনি।
বিষয়টি চোখ এড়ায়নি সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের। কায়ো স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় ওয়েদারাল্ডের এমন ফিল্ডিং দেখে রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
ওয়ার্নার বলেন, ‘সে বোলারের সাথে হেঁটে ভেতরে আসছে! একবার দেখুন, সে নিজেকে প্রস্তুত করে তারপর পজিশনের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। আমি জীবনে কখনো এমন কিছু দেখিনি।’
এরপর নিজের বিস্ময় আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘সবারই নিজস্ব নিজস্ব পদ্ধতি থাকে, কিন্তু আমি সত্যিই এমনটা আগে কখনো দেখিনি।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি এই কৌশলের পেছনের কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, শান্তকে ক্রিজ ছেড়ে সামনে বেরিয়ে এসে শট খেলতে প্রলুব্ধ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওয়েদারাল্ডকে এমন অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।
হিলি বলেন, ‘আমার মনে হয়, নাথান লায়ন ব্যাটারকে উইকেট ছেড়ে সামনে বেরিয়ে এসে খেলতে প্রলুব্ধ করার জন্য শর্ট লেগ ফিল্ডারকে কাছে এনেছেন। আর জেক ওয়েদারাল্ডও তাকে সতর্ক রেখে পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। তাই শান্ত যদি উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসে, জেকও তার সাথে সাথে সরতে পারবেন।’
ওয়ার্নার অবশ্য কৌশলটির অভিনবত্বে এখনো অবাক। শর্ট লেগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমনভাবে নড়াচড়া করতে তিনি আগে দেখেননি কাউকে।
তিনি বলেন, ‘আমি শর্ট লেগে কাউকে কখনও এমন টেকনিক ব্যবহার করতে দেখিনি। সাধারণত ওই পজিশনে আপনাকে বেশ নমনীয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হতে হয়, কিন্তু ব্যাটের মাত্র এক মিটার দূরে থেকে এভাবে হেঁটে আসা অবিশ্বাস্য।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার এই কৌশল খুব একটা কাজে আসেনি। শান্ত ও তানজিদ দুজনই সামলে খেলেছেন। যদিও লায়নের প্রথম ওভারেই বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল তানজিদের উইকেট নেওয়ার। ৬২ রানে থাকা অবস্থায় কাট করতে গিয়ে বল অ্যালেক্স ক্যারির কনুইয়ে লেগে স্লিপের দিকে ছুটে যায়। সেখানে এক হাতে ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন স্টিভ স্মিথ, কিন্তু সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি।
