হোয়াটসঅ্যাপ আনল পাসওয়ার্ড ছাড়া ব্যাকআপ সুরক্ষার সুবিধা

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বার্তা পাঠানোর প্ল্যাটফর্ম। ব্যবহারকারীদের আরও ভালো অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে কোম্পানি এবার নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী ফিচার—পাসওয়ার্ড ছাড়াই চ্যাট ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখার নতুন উপায়।

নতুন আপডেটের মাধ্যমে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এখন থেকে তাদের চ্যাট ইতিহাস ব্যাকআপকে পাসকি-এনক্রিপ্টেড সিস্টেমে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। এর জন্য আর পাসওয়ার্ড টাইপ করার দরকার নেই। ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র মুখের ছাপ, আঙুলের ছাপ বা ফোনের স্ক্রিন লক কোড ব্যবহার করেই ব্যাকআপ এনক্রিপ্ট করতে পারবেন।

নতুন ব্যাকআপ সিস্টেমে পাসওয়ার্ডের ঝামেলা শেষ

এটি প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানোর অ্যাপ এমন প্রযুক্তি আনে, যেখানে ব্যাকআপ ফাইলও শেষ থেকে শেষ এনক্রিপশন দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। পাসকি ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীদের আর দীর্ঘ ৬৪-অঙ্কের এনক্রিপশন কী বা পাসওয়ার্ড মনে রাখার প্রয়োজন নেই।

হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, এই পদ্ধতি সহজ এবং যে কোনো ডিভাইসে কাজ করবে। অর্থাৎ, আপনি iPhone বা অ্যান্ড্রয়েড— যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, একটি ট্যাপেই ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

পাসকি ফিচার ব্যবহার করার ধাপ

নতুন পাসকি ফিচার চালু করতে ব্যবহারকারীদের করতে হবে:

Settings → Chats → Chat Backup → End-to-End Encrypted Backup অপশনটি নির্বাচন।

এরপর ব্যবহারকারীরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা ফোনের স্ক্রিন লক কোড ব্যবহার করে চ্যাট ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ড-মুক্ত হোয়াটসঅ্যাপের দিকে

হোয়াটসঅ্যাপ ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালে অ্যাকাউন্ট লগইনে পাসকি সমর্থন চালু করেছিল। এখন ব্যাকআপ সুরক্ষাতেও সেই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সংস্থাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ধীরে ধীরে পাসওয়ার্ডবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে।

কোম্পানির বক্তব্য, “আমাদের অনেক ব্যবহারকারীর চ্যাটে বহু বছরের মূল্যবান স্মৃতি থাকে—যেমন ছবি, ভয়েস নোট বা গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। তাই ফোন হারানো বা নতুন ডিভাইসে স্থানান্তরের সময় এই ডেটা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

নতুন পাসকি-এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা—দুটি ক্ষেত্রেই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি প্ল্যাটফর্মটিকে আরও সুরক্ষিত, আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে—যা ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর জন্য এক বিশাল উপহার।

Read Previous

এসএমই খাতকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

Read Next

নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নয়

Most Popular