পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিজকারার ১৪ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির অভিযোগে পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্তিন ভিজকারাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত । কয়েক বছর আগে গভর্নর থাকাকালে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার (২৭ নভেম্বর) এ রায় দেওয়া হয়। এর ফলে দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত পেরুর সাবেক নেতাদের দীর্ঘ তালিকায় আরও একটি নাম যুক্ত হলো।

রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় মোকে‌গুয়া অঞ্চলের গভর্নর ছিলেন ভিজকারা। ওই সময় তিনি সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের বিনিময়ে বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ ৭৬ হাজার ডলারের সমপরিমাণ ঘুষ নিয়েছিলেন।

গত অক্টোবরে শুরু হওয়া এই মামলার পুরো প্রক্রিয়াতেই ভিজকারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

২০১৮ সালে আগের প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে তিনি ক্ষমতায় আসেন। তবে দুর্নীতির তদন্তের মধ্যেই কংগ্রেস তাকে দুই বছর পর ক্ষমতাচ্যুত করে।

রায় ঘোষণার পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভিজকারা বলেন, ‘এটা ন্যায়বিচার নয়, এটা প্রতিশোধ। তবে তারা আমাকে ভাঙতে পারবে না।’

ভিজকারাকে আগামী নয় বছরের জন্য সরকারি কোনো পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

ভিজকারার বড় ভাই মারিও ভিজকারা ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘পেরু ফার্স্ট’ দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই দলে সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্তিন ভিজকারা নিজেও দীর্ঘদিন ধরে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভোটের বাক্সে জবাব মিলবে। আমার ভাই মারিও এই লড়াই চালিয়ে যাবে।’

২০১৯ সালে ভিজকারা আইনসভা ভেঙে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার জন্য পরে শাস্তি হিসেবে কংগ্রেস তাকে ১০ বছরের জন্য সরকারি পদে নিষিদ্ধ করে। এর মধ্যেই ২০২১ সালের নির্বাচনে মধ্য বামপন্থী ভিজকারা সারা দেশের সব প্রার্থীকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পুরোনো সেই ২০১৯ সালের সিদ্ধান্তের কারণে শাস্তি হিসেবে তাকে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হয়নি।

তার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশকে লাভা জাতো দুর্নীতি মামলার তদন্তকারী দলের জন্য আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওদেব্রেখটকে (বর্তমানে নভোনর) ঘিরে লাতিন আমেরিকার বহু রাজনৈতিক নেতাকে জড়িয়ে ফেলা এই বিশাল ঘুষ কেলেঙ্কারির তদন্ত অনেকদিন ধরেই চলছে।

ভিজকারার আইনজীবী এরউইন সিচ্চা অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ যাদের সাক্ষী হিসেবে হাজির করেছেন, তারা সেই সব নির্মাণ কোম্পানির কর্মকর্তা যাদের বিরুদ্ধে ভিজকারাই আগে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন।

২০১৮ সাল থেকে পেরু রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ, অভিশংসন আর পদত্যাগের কারণে দেশটি এই সময়ের মধ্যে ছয়জন প্রেসিডেন্ট বদলাতে বাধ্য হয়েছে।

রায়ের পর ভিজকারাকে লিমার সেই কারাগারেই নেওয়া হবে, যেখানে আরও তিন সাবেক প্রেসিডেন্টকে রাখা হয়েছে। আলেহান্দ্রো তোলেদো ও ওলান্টা হুমালা দুর্নীতির দণ্ডে কারাদণ্ড ভোগ করছেন, আর পেদ্রো কাস্তিও বিদ্রোহের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় আটক আছেন।

Read Previous

ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের বৈঠক

Read Next

হংকংয়ে আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪, নিখোঁজ ২৭৯

Most Popular