রাজধানীর মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দুটি লকার থেকে ৮৩২ দশমিক ৫ ভরি সোনা উদ্ধার হওয়ার পর ব্যাংকে মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখার বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ টিম গত ২৫ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে লকার দু’টি খুলে সোনার গহনা জব্দ করে। অগ্রণী ব্যাংকের আগের স্থানীয় কার্যালয় শাখায় থাকা ৭৫১ ও ৭৫৩ নম্বর লকার থেকেই সোনা উদ্ধার হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের কর ফাঁকি, দুর্নীতি ও সম্পদের তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় অভিযান চালায় সিআইসি। সেখানে শেখ হাসিনার ১২৮ নম্বর লকার, ১২ লাখ টাকার এফডিআর এবং ৪৪ লাখ টাকা থাকা একটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আরও দুটি লকারের সন্ধান পায় সিআইসি। আদালতের অনুমতিতে লকারগুলো খোলার পর উদ্ধার করা হয় ৮৩২.৫ ভরি সোনা-যা দেশের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ঘটনার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ব্যাংকিং খাতে লকার ও ভল্ট নিরাপত্তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠেছে-ব্যাংকে সোনা রাখা কতটা নিরাপদ, ভল্ট ও লকারের মধ্যে পার্থক্য কী, গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে লকার খোলা যায় কি না?
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ভল্ট এবং লকারের মূল পার্থক্য ব্যবহারকারীর জন্য।
-ভল্ট হলো ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সুরক্ষিত ঘর-যেখানে ব্যাংক নিজস্ব নগদ অর্থ, মূল্যবান সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি রাখে।
-লকার হলো সেই ভল্টের ভেতরে থাকা ছোট ব্যক্তিগত সুরক্ষা বক্স-যা গ্রাহকরা ভাড়া নেন স্বর্ণ, দলিলপত্রসহ ব্যক্তিগত সম্পদ রাখার জন্য।
ব্যাংকারদের ভাষায়, “ভল্ট হলো ব্যাংকের কোষাগার, আর লকার হলো গ্রাহকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আলমারি।”
গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে লকার খোলার নিয়ম
বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী লকার খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহক বা তার মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তবে আদালতের নির্দেশে অনুসন্ধান বা জব্দ কার্যক্রমের সময় ব্যাংক আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুসারে লকার খোলা যেতে পারে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনেকেরই মত, মূল্যবান সামগ্রী রাখার ক্ষেত্রে সেফ ডিপোজিট লকার এখনো সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। তবে প্রতিটি ব্যাংককে নিজেদের নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী রাখতে হয় এবং গ্রাহকদেরও নিয়ম মেনে লকার ব্যবহার করা জরুরি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লকার থেকে সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লকারের নিরাপত্তা, আইনি প্রক্রিয়া এবং ব্যাংকের দায়িত্ব-সবকিছু নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং খাতে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
