যে ৭টি খেলা শিশুদের খেলতে দেবেন না

আপনার শিশু পৃথিবীর এক অমূল্য সম্পদ, আর তাকে বড় করে তোলার সৌভাগ্য লাভ করেছেন আপনি। এই বেড়ে ওঠার পথে আপনাকে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—সে কী ধরনের খেলা খেলছে।

মুরুব্বিরা যথার্থই বলে গেছেন—’খেলায় বাড়ে, খেলায় পড়ে।’ এর অর্থ হলো, সঠিক খেলা শিশুর উন্নতি ঘটায়, আর বেঠিক খেলা তার সর্বনাশ করে। আপনার সন্তানের সর্বনাশ যাতে না হয়, সেজন্য নিচের সাতটি খেলা থেকে তাকে অবশ্যই দূরে রাখুন।

১. খেলনা বন্দুক দিয়ে খেলা:
অনেক অভিভাবকই শখ করে বাচ্চাদের খেলনা বন্দুক কিনে দেন। সাবধান! ভুলেও এটা করবেন না। বন্দুক দিয়ে খেললে শিশুদের মনে সহিংসভাব তৈরি হয় এবং তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, যা বড় হলেও থেকে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে—বন্দুক দিয়ে অফলাইন বা অনলাইন খেলা শিশুদের মধ্যে Empathy বা সহানুভূতিশীলতা সৃষ্টিতে বাধা দেয়।

২. ভয় দেখায় এমন খেলা:
শিশুদের অন্ধকারে লুকোচুরি কিংবা ভূতের খেলা খেলতে দেবেন না। প্লাস্টিকের সাপ/মাকড়সার মতো ভয়ের জিনিসও ওদের দেওয়া উচিত নয়। এগুলোর কারণে ওরা ভয় পেলে তা পরে কাটানো খুব কঠিন হবে।

এ জাতীয় খেলা ওদের ঘুমের সমস্যা করে, দুঃস্বপ্ন দেখায়, অন্ধকার ভীতি বাড়ায় এবং অলীক ভূতের কল্পনায় তারা খুব ভয় পায়। এগুলো শিশুদের বিকাশে খুব বড় বাধা।

৩. বাজি ধরে খেলা:
শিশুদের বাজি ধরা বা পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে লুডু, ক্যারাম বা অন্য কোনো খেলা খেলতে দেবেন না।

এই খেলাগুলো তাদের লোভ বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে জুয়া খেলার সম্ভাবনা তৈরি করে। তারা চেষ্টা বা পরিশ্রম নয়, ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে শেখে।

পরামর্শ: ভালো কাজের জন্য পুরস্কার দিন, কিন্তু পুরস্কার বা বাজি নির্ভর খেলাকে উৎসাহিত করবেন না।

৪. ডেয়ার গেম (ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ):
যে খেলায় ঝুঁকি আছে, সেটাই ডেয়ার গেম। যেমন: ‘দেখি তো কতক্ষণ তুমি দম ধরে রাখতে পারো?’ কিংবা ‘সোফা থেকে লাফ দাও তো’। বাচ্চাকে সাহসী করার জন্য এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এসব খেলা শিশুকে সাহসী করে না, বরং বিপদে ফেলে।

এছাড়া, তারা নিজেরাই সমবয়স্কদের সাথে এগুলো খেলতে পারে, যা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

৫. অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক খেলা:
বাড়িতে শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আপাতত মুলতবি থাকুক। এমন কোনো খেলা খেলতে দেওয়া উচিত নয়—যাতে হেরে গেলে সে অপমানিত হয়। বাড়িতে খেলায় হেরে গেলে তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট হতে পারে এবং হীনমন্যতা জন্ম নেয়।

বাচ্চাদের খেলায় ফান থাকুক—কম্পিটিশন নয়। বাড়িতে সবাই খেলুক, সবাই পুরস্কার পাক—সবাই হোক সমান সমান।

৬. বুক চেপে ধরা/বালিশ চেপে ধরার খেলা:
শিশুরা অনেক সময় খেলার ছলে বন্ধুর বুক চেপে ধরে বা মুখে বালিশ চেপে ধরে। এই ধরনের খেলায় অক্সিজেন কমে যায়, ফলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি এবং মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এগুলো থেকে খুব খারাপ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৭. ভিডিও গেমকে ‘না’ বলুন:
বাচ্চাকে আসক্ত করার জন্য ভিডিও গেমের জুড়ি নেই এবং এটি অন্যান্য ক্ষতিকর খেলার চেয়েও ভয়ানক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এগুলোকে Gaming Disorder বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এতে আসক্তি শিশুর চিন্তা করার ক্ষমতা কমায়, পড়ালেখায় অনীহা তৈরি করে এবং মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। শিশু মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ঘুমের সমস্যা হয় এবং তারা অসামাজিক হয়ে পড়ে।

“শিশুর সামান্য ক্ষতি মানে পৃথিবীর অনেক বড় ক্ষতি।” কথাটা দয়া করে মনে রাখবেন। শিশুকে আসক্তিমুক্ত নির্মল শৈশব উপহার দিতে চাইলে এই ক্ষতিকারক খেলাগুলোকে সিরিয়াসলি ‘না’ বলুন। শুভকামনা।

কার্টেসি: সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ (বাদল সৈয়দ), লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

Read Previous

ইউরোপ এখন ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে বাধা দিচ্ছে, অভিযোগ পুতিনের

Read Next

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হবে উৎসবমুখর : প্রধান উপদেষ্টা

Most Popular