রাশেদ খানের হুঁশিয়ারি: ‘আওয়ামী দোসরদের সুযোগ দিলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও’
ঝিনাইদহে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ ও ‘ডামি প্রার্থীদের’ অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি সতর্ক করে বলেন—এ ধরনের প্রার্থীকে সুযোগ দিলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার হাটগোপালপুর বাজারে একটি পথসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, ভারতের ইশারায় কিংবা টাকার প্রভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নমনীয়তা দেখালে সরকারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন গড়ে তুলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে রাশেদ খান বলেন, “আমার ভাই আবু সাইদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন। শিশুরাও গুলিতে রেহাই পায়নি। সেই আওয়ামী লীগের লোকজনকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হওয়ার সুযোগ নেই।”
তবে আওয়ামী লীগে যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকলেও মানুষের প্রতি জুলুম-অত্যাচার করেননি, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার কোনো অবস্থান নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কিন্তু “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ” বা “ডামি এমপি”—এই পরিচয়ে যারা নির্বাচনে আসতে চান, তাদের রাজনৈতিক মাঠে গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও তিনি জানান।
ভোটারদের উদ্দেশে রাশেদ খান বলেন, “আসন্ন নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু। টাকার প্রভাব খাটিয়ে কোনো লাভ হবে না। ডামি প্রার্থীরা টাকার জোরে ভোটে নামতে চাইবে—আপনারা তাদের দেখলেই প্রতিরোধ করবেন।”
এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন এবং বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি অসুস্থ; আমরা তাঁর সুস্থতা ও দেশের নেতৃত্বে ফেরার জন্য দোয়া করি।”
এর আগে বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল রাজন এবং যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মিশন আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
