কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর সীমানা নিয়ে উত্তেজনা

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে নদী বন্দরের সীমানা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে জমির মালিক দাবি করা বাসিন্দারা ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন, এমনকি গাছ ফেলে বিক্ষোভ করেছে বাসিন্দারা। তবে এখনো কার্যক্রম শুরু না হলেও শনিবার থেকে উদ্ধার হওয়া নদী বন্দরের ৬৩ একর জমির সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ করবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার নদী বন্দরকে ঘিরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে বাঁকখালী নদীর তীরভূমির চিত্র। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআইডব্লিউটিএ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৩ একর অবৈধ দখলমুক্ত করে। উচ্ছেদ শেষে স্থায়ীভাবে দখল রোধে সীমানা চিহ্নিত করতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

২০১৯ সালের যৌথ জরিপ ম্যাপ অনুযায়ী, সেই এলাকায় উচ্চ ও টেকসই সীমানা পিলার স্থাপন, সাইনবোর্ড বসানো আর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ-এ তিনটি কাজ ৩ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায় বিআইডব্লিউটিএ। এ কার্যক্রম সফল করতে একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে পত্র পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

তবে কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জমির মালিক দাবি করা নারী-পুরুষ সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন, এমনকি গাছ ফেলে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ-বিআইডব্লিউটিএ তাদের ব্যক্তিগত জমিতে জোর করে সীমানা নির্ধারণ করতে চাইছে। তারা আদালতের আদেশও মানছেন না।

বিক্ষোভ অংশ নেয়া নারী পারুল বলেন, ‘এখানে আমাদের জমি রয়েছে। কয়েকবার আমাদের উচ্ছেদও করেছে। আমরা আদালতের দারস্থ হয়েছি। এখানে কোনো ধরনের স্থাপনা না করতে আদেশও আছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কিভাবে এখানে কাঁটাতার-পিলার দেয়। এটা আমরা মানি না।’

আরেক নারী সারা খাতুন বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে জমি কিনেছিলাম। এখন এত কষ্ট না দিয়ে মেরে ফেললেই তো হতো। সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে, কিন্তু আমরা স্থানীয় হয়েও আমাদেরকে বসতবাড়ি করতে দিচ্ছে না। লাঠিসোটা নিয়ে নেমেছি কারণ হচ্ছে-তাদেরকে মারবো না হয় মরবো।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘তারা তো আদালতের আদেশ মানছেন না। কোনো কাগজপত্রও দেখছে না। নিজেদের মতো করে কাজ করছে। এটা তো দেখতে হবে।’

তবে বিআইডব্লিউটিএ বলছে-আদালতের নিষেধাজ্ঞা কখনোই অমান্য হচ্ছে না। বরং কিছু স্বার্থন্বেষী ব্যক্তি ভাড়াটে লোক এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।

কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার আব্দুল ওয়াকিল বলেন, আজকের আন্দোলনে যারা অংশ নিচ্ছেন-রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে খুরুশকুলের রাস্তা অবরোধ করেছেন, তাদের মধ্যে কিছু নারী ও অল্পসংখ্যক পুরুষ রয়েছেন। লক্ষ্য করেছি, তাদের বেশিরভাগই ভাসমান মানুষ; কারও কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই। বোঝা যাচ্ছে, হয়তো কেউ তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে এখানে এনেছে। বিষয়টি গোয়েন্দা বাহিনী যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত করবেন।’

পোর্ট অফিসার আব্দুল ওয়াকিল আরও বলেন, ‘সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই-আমরা কাউকে উচ্ছেদ করছি না। এই মুহূর্তে কোনো উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে না। আমরা শুধু ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে এলাকার সীমানা উদ্ধার করেছিলাম, সেই অংশে পিলার বসাবো। কারণ উদ্বেগ রয়েছে-পিলার না বসালে, সীমা দৃশ্যমান না থাকলে, ২০২৩ সালের মতো কিছু ভূমি দখলদার আবার এসে জায়গা দখল করার চেষ্টা করতে পারে।’

চলতি বছরের পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ সাড়ে ৪০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর ৬৩ একর জমি দখলমুক্ত করে।

Read Previous

রেকর্ড ভাঙার পরও ওয়াসিম আকরামকেই উপরে রাখছেন স্টার্ক

Read Next

৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপি মান্না, পরিশোধে ব্যাংক নোটিশ!

Most Popular