বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে মেডিকেল বোর্ড। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে দলের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে তিনি ১৩ দিন ধরে চিকিৎসাধীন। গত শুক্রবার সকালে তাঁকে কাতার আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে নেওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়নি। পরে কাতারের দূতাবাস জানায়, জার্মানির একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে, যার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা করছে কাতার সরকার।
এদিকে শুক্রবার প্রফেসর ডা. এ কিউ এম মহসিনের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার এন্ডোস্কোপি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের অনুমতি পেলেই তাকে বিদেশে নেওয়া হবে। সবকিছু নির্ভর করছে মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে, যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় এসে শুক্রবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে শাশুড়ির খোঁজখবর নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। চিকিৎসার পরবর্তী করণীয় নিয়ে মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন তিনিও।
দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চক্ষুর বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ১১৭ দিন অবস্থান শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ২৩ নভেম্বর তাঁকে আবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি ও বিদেশযাত্রার বিষয়ে রাতে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে মেডিকেল বোর্ড।
