ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ, দাবি ট্রাম্পের শীর্ষ সহকারীর
ভেনেজুয়েলার তেল আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার। তিনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির তেল শিল্প জাতীয়করণকে ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুধবার পোস্টে মিলার লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প আমেরিকানদের পরিশ্রম, উদ্ভাবন ও ঘামের ফসল, যা জবরদখল করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই ‘লুট করা সম্পদ’ সন্ত্রাসবাদ, যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা এবং মাদক প্রবাহে ব্যবহার হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক আইনের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্ব’ নীতিমালা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেল তার নিজস্ব সম্পদ। ১৯৭৬ সালে দেশটি তেল শিল্প জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পিডিভিএসএর অধীনে আনে। ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ বিদেশি প্রকল্পগুলোও জাতীয়করণ করেন, যার ফলে কনোকোফিলিপস ও এক্সনমোবিলের মতো মার্কিন তেল জায়ান্টদের দেশ ছাড়তে হয়।
মিলারের এই দাবির পেছনে মার্কিন প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সালিশি ট্রাইব্যুনাল এক্সনমোবিলকে ১.৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে ভেনেজুয়েলাকে নির্দেশ দেয়, তবে আইনি প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পিডিভিএসএর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতি আরও জোরদার করা হয়।
মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় নৌবহর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে যতক্ষণ না তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে চুরি করা তেল, জমি ও অন্যান্য সম্পদ ফিরিয়ে দেয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে, যা কারাকাস আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি নৌযানগুলোর ওপর মাদক পাচারের অভিযোগে হামলা চালাচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা একে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, নৌ হামলাগুলোর লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামে একটি কথিত সংগঠনকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার সরকারের নেতৃত্বে কোনো সুসংগঠিত মাদক কার্টেলের প্রমাণ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর নেতৃত্বে মাদক প্রবাহের বিষয়েও দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
