ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইসরায়েল

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইসরায়েল। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ৪ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ২। এটির কেন্দ্রস্থল ছিল ডিমোনার কাছাকাছি এলাকায়। এ কম্পনের ফলে লোহিত সাগর ও দক্ষিণ নেগেভ অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এর আগে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড লোহিত সাগর এলাকা ও দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমিতে ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করে। সতর্কতার পর ওইসব অঞ্চলের বাসিন্দারা ভূমিকম্প অনুভব করার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছে ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে। এটি ‘ভালদিভিয়া ভূমিকম্প’ বা ‘গ্রেট চিলিয়ান আর্থকোয়াক’ হিসেবে পরিচিত ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫, যা প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। এতে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হন কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ।

১৯৬৪ সালে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি হয়েছিল আলাস্কায়। ৯ দশমিক ২ মাত্রার সেই ভূমিকম্প এবং তার জেরে সৃষ্ট সুনামিতে নিহত হয়েছিলেন ১৩০ জন এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ২৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ।

২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হেনেছিল তৃতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি। ৯ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটি ১০ মিনিটেরও বেশি স্থায়ী ছিল, যা সবচেয়ে দীর্ঘতম সময়ের ভূমিকম্প। ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটায়। এটি বক্সিং ডে সুনামি নামেও পরিচিত। কোথাও কোথাও ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ে, বাড়িঘর ধ্বংস করে মানুষজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন ১১ লাখের বেশি মানুষ।

তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দিক দিয়ে সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ছিল ১৫৫৬ সালের চীনের শানসি প্রদেশে আঘান হানা দুর্যোগটি। এতে প্রাণ হারায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। দ্বিতীয় বিধ্বংসী ভূমিকম্পটিও চীনে। ১৯৭৬ সালে দেশটির তাংশানে প্রাণ হারায় ২ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। ১১৩৮ সালে সিরিয়ার আলেপ্পোর ভূমিকম্পে নিহত হয় ২ লাখ ৩০ হাজার। ১৯২০ সালে চীনের হাইয়ুহানের ভূমিকম্পে প্রাণ হারায় দুই লাখ। ৮৫৬ সালে ইরানের দামঘানে ভূমিকম্পেও দুই লাখ লোক মারা যায়। ১৯২৭ সালে চীনের তাইওয়ানে ২ লাখ লোকের প্রাণহানি হয়। ৮৯৩ সালে আর্মেনিয়ার বার্শের ভূকিম্পে মারা যায় দেশ লাখ মানুষ। ১৯২৩ সালের ভূমিকম্পে জাপানের কান্তোয় মারা যায় ১ লাখ ৪৩ হাজার। ১৯৪৮ সালের ভূমিকম্পে তুর্কিমেনিস্তানের আশগাবাদে মৃত্যু ঘটে ১ লাখ ১০ লাখের বেশি মানুষের আর ১৯০৮ সালে ইতালির মেসিনায় প্রাণ হারায় লাখখানেক মানুষ।

Read Previous

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান

Read Next

ইসলামী আন্দোলন নিয়ে যে বার্তা দিলেন রাশেদ প্রধান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular