চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি, জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে না তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ

চলতি মাসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জলবায়ু ও পানি সম্পদ উপদেষ্ট সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, যাছাই-বাছাই প্রক্রিয়াটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটা শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে এটা হয়তো জানুয়ারির মধ্যে শুরু হচ্ছে না। কিন্তু কোনোভাবেই হতাশা ছড়ানো যাবে না।
কারণ, উনি (চীনা রাষ্ট্রদূত) প্রকল্পটা করার ব্যাপারে চীন সরকার-বাংলাদেশ সরকার উভয়ে প্রতিশ্রুতবদ্ধ বলেই আমরা দুজন আপনাদের কাছে এসেছি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙন প্রবণ এলাকা পরিদর্শনে যান উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ও চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় তিস্তার বিস্তৃতি, ভাঙন, দুর্ভোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবগত করেন উপদেষ্টা। এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উপদেষ্টা ও চীনা রাষ্ট্রদূত নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
এ সময় রংপুর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসন শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চীনা রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে রিজওয়ানা হাসান জানান, যাছাই বাছাই বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা খুব ভালোভাবে যাছাই বাছাই করছি। এই প্রকল্প নিয়ে মানুষের এত বেশী প্রত্যাশা যেন এখানে কোনো ভুল না থাকে। আমরা যেন সম্পূর্ণ সঠিকভাবে কাজটা করতে পারি।
যতদ্রুত সম্ভব চীন কাজটা শুরু করার পক্ষে। উনি আশা করেন যতদ্রুত সম্ভব এই বছর কাজটা শুরু হবে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আগের যে প্রকল্প ছিল সে প্রকল্পে কোনো সময় ছিল না, তারিখ ছিল না এবং সে প্রকল্প যাচাই-বাছাইও হয় নাই। এখন যাচাই-বাছাই না হয়ে কেন টাইম দিলাম? কারণ, সরকার যখন একটা প্রকল্প সাবমিট করে তখন সরকারকে বলতে হয়- কবে সে কাজটা শুরু করতে চায়? যাতে অন্য যে দেশটা আছে, যে সাহায্য দেবে সেও ওই ডেটটা মাথায় রেখে কাজটা করে। তিনটা জিসিন এখানে দেখতে হবে-বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙণ রোধ এবং একই সঙ্গে সেচ দেওয়া।
এটা ফুল প্রুফ দেওয়ার জন্য উনারা একটু সময় নিচ্ছেন।’
অন্যান্যবারের তুলানায় এবার ডিফরেন্ট কেন জানেন? আমরা বিস্তারিত কাজ করেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পর্যন্ত গণশুনানী করেছি, জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছি তারপর এটা চীনদেশে পাঠানো হয়েছে।’
চীন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল, হতাশা ছড়িয়েন না। হতাশা ছড়িয়ে, হতাশ হয়ে লাভটা কী? কোনো লাভ নেই। একজন রাষ্ট্রদূত এসেছেন, আমি এসেছি নিশ্চই এখানে আশার বড় বেশি জায়গা আছে বলে আমরা এসেছি। এখন একটা সমীক্ষা হয়ে আমরা যে টাকা দিলাম দেখা গেল কাজটা করতে গিয়ে বেশি টাকা লাগল, তখন আমি চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেললে তো পরিবর্তন করা অনেক কষ্টের হয়ে যাবে। বরং এমন একটা প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হবে উভয় দেশের জন্য এটা সহনশীল হয়, জনগণও উপকৃত হয়। তাদের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা সাক্ষর আছে।’
অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদারের আশ্বাস দিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক চাপ নেই। টেকসই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব।’
