আগামী নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষায়, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে—বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) পথে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির দখলে চলে যাবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
নির্বাচন ঘিরে দেশে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ চলছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চালানো হচ্ছে।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ বা ভূমিধস বিজয় অর্জন করবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের রায় দেবে।
গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আশা করছি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাবো। যেখানে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমরা নতুন করে একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করবো।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি অনেক আগেই রূপরেখা দিয়েছিল। আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ২০১৬ সালে ভিশন-২০৩০ দিয়েছিলেন। এরপর আমাদের নেতা তারেক রহমান অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন।
সরকারপক্ষের কেউ কেউ সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন—এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যে সংস্কার নিয়ে আজকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। আমরা যা যা বলেছি, সব কটি আজকে এখানে আছে। এটা তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি।
কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তোমরা কিছুটা বেইমানি করেছো—যেগুলো আমরা একমত হইনি, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছো। তারপরও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা মেনে নিয়েছি।
মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি নিয়ে বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি, তারাই আজকে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে।
ধর্মীয় বিশ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম যুক্ত করেছিলেন। তিনি আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন।
নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার বিষয়ে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ২৩ দিন বাকি আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে বলে নির্বাচন হবে না, বাধা দেবো। ভেতরে-ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন—তাদের তিনটা ভোটও নাই। বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেবো না। তো ভাই, হোক নির্বাচন, দেখা যাক, কে কয়টা ভোট পায়।
তিনি বলেন, জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয়, বাদ দিয়ে দেবে। আমরা বিরোধী দলে থাকবো। আগে থেকে এতো গলাবাজি কেন?
দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। আমাদের অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
