তায়াম্মুমের নিয়ম

 

ইসলামে ইবাদতের প্রতিটি বিধানে রয়েছে মানবিকতা ও বাস্তবতার ছাপ। নামাজের আগে পবিত্রতা অর্জনের জন্য সাধারণত অজু বা গোসল ফরজ। কিন্তু এমন পরিস্থিতি আসতে পারে– পানি নেই, কিংবা অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহার করা ক্ষতিকর। তখন মহান আল্লাহ বান্দার জন্য রেখেছেন বিকল্প ব্যবস্থা– তায়াম্মুম।

পানি না থাকলে অথবা পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে অজু ও গোসলের বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছে ইসলাম। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,

তোমরা যদি পীড়িত হও বা সফরে থাকো বা তোমাদের কেউ শৌচালয় থেকে আসে বা তোমরা স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হও এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে, অর্থাৎ তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করবে। আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দিতে চান না; তিনি শুধু তোমাদের পবিত্র করতে এবং তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। (সুরা মায়িদা: ৬)

১. যদি ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে মারা যাওয়ার, শরীরের কোনো অঙ্গ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার, অসুস্থ ব্যক্তির অসুখ ভালো হতে দেরি হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস বা প্রবল আশঙ্কা হয়; পানি গরম করার বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করার পর দ্রুত শরীর গরম করার কোনো ব্যবস্থাও না থাকে, তাহলেই তায়াম্মুম করা বৈধ। অন্যথায় অজু-গোসল করা আবশ্যক।
২. ক্ষতি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা না হয়ে শুধু ভয় বা আশঙ্কা থাকলে তায়াম্মুম করা যাবে না।
৩. গরম পানির ব্যবস্থা থাকলে অথবা বদ্ধ ঘরে অজু-গোসল করার সুযোগ হলে অথবা অজু-গোসলের পর দ্রুত শরীর গরম করার ব্যবস্থা থাকলে তায়াম্মুম বৈধ নয়। (আল বাহরুর রায়েক: ১/১৪৮)

দেশে যে মাত্রার শীত পড়ে, তার প্রভাবে পানি এতো বেশি ঠান্ডা হয় না। ফলে তা দিয়ে অজু-গোসল করলে সাধারণত মৃত্যু বা অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না। আর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে অজুতে রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

প্রচণ্ড ঠান্ডার মৌসুমে যে পরিপূর্ণ অজু করবে, তাকে দ্বিগুণ সওয়াব দেয়া হবে। (মাজমাউজ জাওয়ায়িদ)

তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি

১. নিয়ত করা
২. সমস্ত মুখমণ্ডল মাসেহ করা।
৩. উভয় হাতের কনুইসহ মাসেহ করা।
(সূত্র: সুরা মায়েদা ৬; ফতোয়ায়ে শামি ১/৯৬; খুলাসাতুল ফতোয়া ১/৩৫)

Read Previous

আল-আকসায় ফিলিস্তিনিদের জুমার নামাজে বাধা, কড়াকড়ি ইসরাইলের

Read Next

সারাদেশে সড়কে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী

Most Popular