রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তিা দিচ্ছে— এমন অভিযোগে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়,মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া ইরানকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। এসব সহায়তার মধ্যে রয়েছে— গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, স্যাটেলাইট ইমেজ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান, যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানের গতিবিধির ওপর নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে ইরান।
রাশিয়ার এ পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন— কে কার সঙ্গে কথা বলছে সে বিষয়ে তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (ট্রাম্প) পুরোপুরি অবগত। প্রকাশ্যে বা গোপনে যা-ই ঘটুক না কেন, তার কড়া জবাব দেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সবকিছুর ওপর নজর রাখছে এবং যুদ্ধের পরিকল্পনায় সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করছে।’
এর আগে শুক্রবার, একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাসহ একাধিক সূত্র সিবিএস নিউজকে জানায়, ইরানে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থান সম্পর্কে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।
রাশিয়াকে এই সংঘাত থেকে দূরে রাখতে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনার আশা আমেরিকানরা করতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘ট্রাম্পের অনেক বিশ্বনেতার সঙ্গে এমন অনন্য সম্পর্ক রয়েছে যা ব্যবহার করে তিনি এমন সব কাজ করিয়ে নিতে পারেন যা অন্য প্রেসিডেন্টরা, বিশেষ করে জো বাইডেন কখনোই পারতেন না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, ট্রাম্পের মাধ্যমে ওয়ান-টু-ওয়ান অথবা তার ক্যাবিনেটের মাধ্যমে বার্তা নিশ্চিতভাবেই পৌঁছে দেওয়া যায়।’
রাশিয়ার এই সংশ্লিষ্টতা মার্কিন সেনাদের বিপদে ফেলছে কি না, জানতে চাইলে হেগসেথ বলেন, ‘আমরা অন্যদের (শত্রুপক্ষকে) বিপদে ফেলছি, আর এটাই আমাদের কাজ। তাই আমরা এটি নিয়ে চিন্তিত নই… এই মুহূর্তে কেবল সেই ইরানিদের চিন্তিত হওয়া দরকার যারা ভাবছে তারা বেঁচে থাকবে।’
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে যখন রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে ফক্স নিউজ থেকে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি বলেন, তিনি ‘সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা রিপোর্টের’ ওপর মন্তব্য করতে পারেন না। উল্লেখ্য, রাশিয়ার এই সহায়তার খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছিল দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
লেভিট বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি ঘটেছে কি ঘটেনি তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের এই খুনি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।’
পরবর্তীতে লেভিট সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়ার তথ্য শেয়ার করা ‘কিছু যায় আসে না’ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন— এটি ইরানে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য তৈরি করতে পারছে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিচ্ছে।
