ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় কোম্পানিগুলো প্রায় এক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে। এই গ্যাসের বেশিরভাগই গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহার হয়।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৭ মার্চ) ভারতের শীর্ষ রিফাইনার ও এলপিজি বিক্রেতা ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন তাদের ওয়েবসাইটে ঘোষণা দিয়েছে, দিল্লিতে ১৪.২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৯১৩ রুপি (৯.৯৩ ডলার) করা হয়েছে।
এছাড়া রাজ্যভিত্তিক পরিশোধক সংস্থা আইওসি, ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসিএল) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও একযোগে দাম বাড়িয়েছে।
ভারত, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ, গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন রান্নার গ্যাস ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে প্রোপেন এবং বিউটেনের মিশ্রণ, যা আমদানি করা এলপিজির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ভারতের এলপিজি আমদানির ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
এ পরিস্থিতিতে, দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি এড়াতে শুক্রবার তেল পরিশোধকদের এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে শুধু গৃহস্থালির জন্য নয়, বাণিজ্যিক ব্যবহারেও দাম বাড়ানো হয়েছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৬৮.৫০ রুপি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৮৩ রুপি করেছে। এই সিলিন্ডার সাধারণত হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়।
দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। দিল্লির এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। তার মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুর দামই বাড়ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
