কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৩
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ اِنۡ كَادُوۡا لَیَفۡتِنُوۡنَكَ عَنِ الَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡكَ لِتَفۡتَرِیَ عَلَیۡنَا غَیۡرَهٗ ٭ۖ وَ اِذًا لَّاتَّخَذُوۡكَ خَلِیۡلًا ﴿۷۳﴾
সরল অনুবাদ
৭৩. আর আমরা আপনার প্রতি যা ওহী করেছি তা থেকে ওরা আপনাকে পদস্খলন ঘটাবার চেষ্টা প্রায় চূড়ান্ত করেছিল, যাতে আপনি আমার উপর সেটার বিপরীত মিথ্যা রটাতে পারেন; আর নিঃসন্দেহে তখন তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করত।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা বনি ইসরাঈলের এই আয়াতটিতে বলা হচ্ছে যে, কাফেররা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে সমস্ত প্রস্তাব দিত। তন্মধ্যে এক বিশেষ প্রস্তাব ছিল এমন যে, আপনি এ কোরআন বাদ দিয়ে ভিন্নধর্মী কিছু নিয়ে আসুন যা আমাদের মনঃপুত হবে। কিন্তু একজন নবীর পক্ষে কিভাবে ওহী ব্যতিত অন্য কিছু আনা সম্ভব হতে পারে? তিনি যদি তা করেন তবে হয়তো তারা তাকে বন্ধু বানাবে কিন্তু আল্লাহ কি তাকে এভাবেই ছেড়ে দিবেন? অবশ্যই না।
আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, ‘তিনি যদি আমার নামে কোনো কথা রচনা করে চালাতে চেষ্টা করতেন, আমি অবশ্যই ডান হাতে ধরে ফেলতাম, এবং কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনী।’ (সুরা আলহাক্কাহ, আয়াত : ৪৪–৪৬)
সুতরাং, নবীর পক্ষে ওহী ব্যতীত কিছু বলা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন, ‘যখন আমার আয়াত, যা সুস্পষ্ট, তাদের কাছে পাঠ করা হয় তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলে, ‘অন্য এক কোরআন আন এটা ছাড়া, বা এটাকে বদলাও৷’ বলুন, “নিজ থেকে এটা বদলান আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি।
আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই মহাদিনের শাস্তির আশংকা করি।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ১৫) তাই একজন সত্য নবীর পক্ষে কক্ষনো নিজ থেকে বানিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
