বাংলাদেশের বাস্তবতা জানান দিচ্ছে ভয়াবহ সংস্কৃতির, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

 

‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার’- আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য এমন হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতা জানান দেয় এক ভয়াবহ সংস্কৃতির। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই দেশে দুই শতাধিক কন্যাশিশু ও নারী ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি পরিবর্তনে প্রয়োজন নারীবান্ধব বিচারব্যবস্থা।

বৈষম্য, নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা-এমন সহিংসতায় ক্ষতবিক্ষত বাংলার নারীর আত্মবিশ্বাস। পৌনঃপুনিক প্রতিবাদ, অবিরত সংগ্রাম; তবুও নারীর প্রতি সহিংসতার খবর যেনো নিত্য বাস্তবতা।

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের কন্যাশিশু কিংবা নরসিংদীর কিশোরীর রক্তাক্ত শরীর! প্রতিবারই প্রশ্ন জাগায়, নারীর জন্য কতটা নিরাপদ এ রাষ্ট্র? বরং দেশের মানচিত্রজুড়ে ঘটে যাওয়া এমন অগণিত ঘটনা, আর নির্যাতিতের আর্তনাদ সংবাদের কাটতি বাড়িয়ে, শেষতক রূপ নেয় নির্মম পরিসংখ্যানে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, ফেব্রুয়ারিতে ১৮৩ জন কন্যাশিশু ও নারী, নির্যাতনের শিকার হন, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন। মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন তথ্যে নির্যাতনের সংখ্যা আরও বেশি, ২৫৩ জন। আর, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসেব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধর্ষণের শিকার হন ৩৫ জন, যাদের মধ্যে ১৩ জনেরই বয়স ১২ বছরেরও নিচে।

তবে পরিসংখ্যানে যোগ হয় শুধু সেসব ঘটনা, যা পৌঁছায় গণমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যন্ত। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিচারহীন বা বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সামাজিক চাপ আর নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে, নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়।

মানবাধিকার কর্মী শাহীন আনাম বলেন, নারীবান্ধব একটা বিচার ব্যবস্থার দাবি আমাদের অনেক দিন ধরে। একজন নারী যখন বিচার চাইতে যান, তখন তার যে কষ্ট হয়, সেই কারণেই অনেকে বিচার চান না। ৯৮ শতাংশ দোষী ব্যক্তিই মনে করেন যে তাদের কিছু হবে না।

আইনজীবীরা বলছেন, আইনি কাঠামো থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নারীকে এখনো নির্যাতনের মুখে ঠেলছে বারবার।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম বলেন,
শাস্তিটাকে নিশ্চিত করা যাচ্ছে কিনা, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায়, শাস্তিটা অতিরিক্ত কঠোর, কিন্তু সেটা নিশ্চিতই করা যাচ্ছে না। তাহলে তো সেটা মৃত্যুদণ্ড হলেও কোনো লাভ নেই। এজন্য আইনের সংস্কার করতে হবে, সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে, সামাজিক মাইন্ডসেট পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ক্যাম্পেইন করতে হবে। এছাড়া একটা রাজনৈতিক সৎ ইচ্ছা লাগবে।

এই সভ্যতার শ্রম আর ঘামের আধা অংশীদার নারী হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্র। একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্ব যখন সমঅধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার, তখনও জীবনের ঝুঁকিতে ভুগতে থাকা জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বদেশ।

Read Previous

ক্রিকেটারদের আগে ঢাকায় পা রাখলেন পাকিস্তানের কোচরা

Read Next

বেগম খালেদা জিয়াসহ ৮ বিভাগে পুরস্কার পাচ্ছেন ৩৯ নারী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular