মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম নয় ওভারে ভালোই খেলছিল পাকিস্তান। কিন্তু দশম ওভারে নাহিদ রানা বল হাতে তুলে নিতেই বদলে গেল ম্যাচের পরিস্থিতি। গতি আর বাউন্সে পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিশীল এই বোলার। টানা পাঁচ ওভারে শিকার করলেন উইকেট। নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে পাকিস্তান গুটিয়ে গেল ১১৪ রানে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে জয় পেয়েছে ২০৯ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে!
রান তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৪২ বলে করেন ৬৭ রান। বাংলাদেশের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। একইসঙ্গে তীব্র সমালোচনায় ধুয়ে দিয়েছেন স্বদেশি খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টকে।
আমির মনে করেন, পাকিস্তান ‘আউট অব সিলেবাস’ কৌশলে ধরা খেয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের হারের কারণ খুঁজেছেন আমির। তার মতে, পাকিস্তান ভেবেছিল বাংলাদেশ হয়ত স্পিননির্ভর উইকেট বানাবে, কিন্তু ঘাসে ঢাকা বাউন্সি উইকেট বানিয়ে ভড়কে দিয়েছে।
আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ খুব স্মার্টলি খেলেছে। আমরা তো ধরে নিয়েছি ওখানে টার্নিং উইকেট হবে। তারা ফাস্ট বলের উইকেট বানিয়েছে। কথায় বলে না, ঠিক যেন ‘আউট অব সিলেবাস’’ প্রশ্ন চলে এসেছে। তারা বাউন্সি উইকেট বানিয়েছে, দারুণ বাউন্স পাচ্ছিল বোলাররা। আর ইদানিং এটা নিয়মতই দেখা যায় যে ১৪০ প্লাস গতির বোলার দেখলেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা লাফালাফি শুরু করে দেয়।’
পাকিস্তানেরে ব্যাটারদের এমন দুর্দশার পেছনে অনুশীলনের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন আমির। তার মতে, পাকিস্তানের তরুণদের কৌশলেও বড়সড় ত্রুটি আছে।
আমিরের ভাষায়, ‘যখন আপনি অনুশীলনে বল ছুঁড়ে দিয়ে শট খেলার অনুশীলন করবেন, তো যখন গতির সঙ্গে বল আসবে আপনি সমস্যায় পড়বেনই। আপনি নেট বা যেখানেই অনুশীলন করেন, আপনাকে বোলারের ওই গতির সঙ্গেই করতে হবে। পাওয়ার হিটিং বা ডিফেন্স মানে এই নয় যে কেউ ওপর থেকে বল ছুড়ে দিচ্ছে আর আপনি খেলছেন। আসল পেসের বিপক্ষে খেলার সামর্থ্য থাকতে হবে। এই থিওরি আমাদের বদলাতে হবে।’
আমির যোগ করেন, ‘মাজ সাদাকাত খেলেছে, শামিল খেলেছে, তারা গতকালকের বাচ্চা। আমি তাদের দুজনের ব্যাটিং দেখছিলাম, দুজনের কৌশলেই বড়সড় ত্রুটি আছে। আজকালকার ছেলেদের একটা কমন প্রবণতা দেখা যায়, সব বলই মিড উইকেটে খেলতে চায়। অফস্টাম্পের বল বোঝে না।’
পাকিস্তানের এই দলকে পুরোপুরি ভারসাম্যহীন বলে মনে করেন আমির। এর জন্য পিসিবির নির্বাচকদের দায়ী করেন তিনি। কামরান গুলাম বা ইরফান খান নিয়াজিদের পেছনে বিনিয়োগ করার পর তাদের সুযোগ না দিয়ে অপরিপক্ব খেলোয়াড়দের দলে নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই পেসার।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় লাগছে, শেষ পর্যন্ত আমরা অ্যাসোসিয়েট দল না হয়ে যাই। ৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল হয় না। দলে সিনিয়র-জুনিয়রদের ভারসাম্য থাকতে হবে।’
নিজেদের ব্যাটারদের ব্যর্থতার সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা করেছেন আমির। তার ভাষায়, ‘বোলিংয়ের সময় তারা আমাদের দুম্বার মতো মজা করে মেরেছে। যে উইকেটে আমরা ১১৪ করেছি, একই উইকেটে তারা ১০-১২ ওভারেই সে রান চেজ করেছে।’
আমির পাকিস্তান দলকে সতর্ক করে বলেছেন, এই সিরিজে স্পিন উইকেটের আশা করা সবচেয়ে বড় ভুল হবে। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলে দিই, বাংলাদেশ আপনাদের কোনো স্পিন ট্র্যাক দেবে না। তারা এমন উইকেটই দেবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, যারা ১৩৫-১৪০ গতিতে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। তারা সিরিজ জেতার জন্য এই সুযোগটাই নেবে।’
