সারাদেশে ট্রেন চালাতে চার শতাধিক ইঞ্জিনের প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে আছে মাত্র দুই শতাধিক, যার মধ্যে ৬০ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ইঞ্জিনে ট্রেনের গতি কমে গেছে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। ইঞ্জিন সংকটের কারণে পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে, কখনও কখনও ট্রেন বাতিলও হচ্ছে।
কর্ণফুলি এক্সপ্রেস। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার কথা থাকলেও এই দূরপাল্লার ট্রেনের ইঞ্জিনের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে এক যুগ আগে। বিকল হয়ে গেছে চালকের সামনে থাকা গতি পরিমাপক মিটার, কাজ করে না চালকের হাতে থাকা তিনটি ব্রেকের একটি।
ভয়াবহ তথ্য হলো, বিকল হয়ে গেছে চালকের পায়ের কাছে থাকা ডেডম্যাল ফুট প্যাডেল। যাত্রী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চালকের জীবনই যেন ঝুঁকির মধ্যে।
ট্রেন চালক খালিদ হোসেন বলেন, ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
১৯৬৯-৭০ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইঞ্জিন ছিল ৪৮৬টি। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে সংখ্যা কমে দুই শতাধিক, যার ৬০ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে কমেছে ট্রেনের গতি, বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বেশিরভাগ ইঞ্জিনগুলোরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে; অনেকগুলোই অকার্যকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলতেছে। নতুন ৩০০০ সিরিজের ইঞ্জিনগুলোও যথাযথ সেবা দিচ্ছে না।
এদিকে, পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকটের কারণে প্রতিদিন ৩-৪টি ট্রেন বিলম্বে যাত্রা করছে, কখনও কখনও বাতিল হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি হচ্ছে।
ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিন সংকটের কারণে প্রতিদিনই বিলম্ব হচ্ছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক বছরের মধ্যে মিটারগেজের ৫০টি ইঞ্জিন কেনা না হলে সার্বিক রেল সেবা হুমকির মুখে পড়বে। রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ৩০০০ কিলোমিটার রেল নেটওয়ার্ক সেবা দিতে যেসব লোকমোটিভ প্রয়োজন, তার ৫০ শতাংশ আছে, এবং এই ৫০ শতাংশের মধ্যে ৭০ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। তাই দ্রুত নতুন ইঞ্জিন কেনার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, এডিবি অর্থায়নে ৩০টি এবং এআইআইবির অর্থায়নে ৩০টি নতুন ইঞ্জিন আনা হবে। মোট ৬০টি ইঞ্জিনের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন চলছে।
সারাদেশে ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথে প্রতিদিন পণ্যবাহী, আন্তঃনগর, লোকাল, মেইল ও কমিউটার মিলিয়ে ৩২৫টি ট্রেন চলাচল করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত বিলাসী প্রকল্পের কারণে রেল নীরবভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন সরকারের উচিত বিলাসী প্রকল্প নয়, বরং কারিগরি বিভাগের প্রাথমিক চাহিদাগুলো মেটানোর দিকে নজর দেয়া।
