গাইবান্ধায় তরুণদের উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘গাইবান্ধা ইকোসাইকেল: বন্যা সহনশীল সবুজ অর্থনীতির জন্য তরুণদের উদ্ভাবন’ প্রকল্পের আওতায় একটি ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) গাইবান্ধার কামারজানিতে ‘লোকাল গ্রিন মার্কেট স্টলস অ্যান্ড প্রোডাক্ট সেলিং’ শীর্ষক এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সৃজনশীল গাইবান্ধা। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ভিএসও বাংলাদেশ।
প্রকল্পের আওতায় পূর্বে স্থানীয় তরুণদের মাঝে ১২ প্রকার সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল লালশাক, পুঁইশাক, ডাটা শাক, সবুজ শাক, টমেটো, করলা সহ বিভিন্ন সবজির বীজ। সেই বীজ থেকে উৎপাদিত তাজা সবজি ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপণ্য দিয়েই এই গ্রিন মার্কেটের আয়োজন করা হয়।
এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে উৎসাহিত করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, টেকসই জীবনধারা প্রচার করা এবং বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে সবুজ অর্থনীতির ধারণা শক্তিশালী করা।
সৃজনশীল গাইবান্ধার সভাপতি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গাইবান্ধায় একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে আমরা সবুজ পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি।’
সবজি উদ্যোক্তা রুপালি রানী বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এখানে আমরা আমাদের উৎপাদিত তাজা সবজি ও পরিবেশবান্ধব পণ্য সরাসরি মানুষের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছি।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও তরুণরা অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৃজনশীল গাইবান্ধার সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, প্রকল্প কর্মকর্তা আতহার মিহদা তুবা, হিসাব কর্মকর্তা রঞ্জন দেবনাথ, কার্যনির্বাহী সদস্য নওশা মিয়া, ব্রাদারহুড কামারজানী সংগঠনের সদস্য শাহিন সরকার প্রমুখ।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সবুজ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই জীবনধারা প্রচার এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
