আমেরিকা বয়কট কবরো, বিশ্বকাপ নয়- ইরানের ফুটবল প্রধানের স্পষ্ট বার্তা

 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই করছে না ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ বুধবার (১৮ মার্চ) আবারও বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আমরা আমেরিকাকে বয়কট করবো, কিন্তু বিশ্বকাপ নয়।’

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আগেভাগেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে ইরান। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা ইরানের। দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলসে, একটি সিয়াটলে হওয়ার কথা। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের ম্যাচ মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

এক ভিডিও বার্তায় ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ, ‘আমরা ফিফা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করবো কিন্তু বিশ্বকাপ নয়।’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি থেমে নেই ইরানের, তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্প করছে দলটি। এই ক্যাম্প চলাকালীন তারা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে- ২৭ মার্চ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং চার দিন পর কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে তারা। ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে আন্তালিয়ায়, যেখানে চার জাতির একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রতিযোগিতাটি মূল ভেন্যু জর্ডান থেকে সরিয়ে তুরস্কে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। ইরান নারী জাতীয় ফুটবল দল যখন নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যায়, তখন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাগতিক দেশটি আশ্রয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে সাতজন খেলোয়াড় সেই প্রস্তাবে সাড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দুজন সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন; বাকিরা দীর্ঘ যাত্রা শেষে দেশে ফিরে যান। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান মেহদি তাজ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়াকে ইরানি খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে এলে ইরান দলের খেলোয়াড়দের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে শঙ্কা থাকতে পারে। পরে অবশ্য তিনি স্পষ্ট করেন, সম্ভাব্য কোনো হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসবে না। তবুও ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ট্রাম্পের ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলেছেন।

অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, জুন মাসে ইরানের ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ঘোষিত সূচি অনুযায়ীই সব দল খেলবে বলে তার আশা।

Read Previous

প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

Read Next

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ, রেলওয়ে ব্রিজে ধাক্কা লেগে প্রাণ গেল যুবকের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular