নজিরবিহীন এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে আফ্রিকার ফুটবল কর্তারা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুই মাস পর শিরোপা ছিনিয়ে নেয়া যায়, এমন ঘটনার প্রথমবার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। যে শিরোপা নিয়ে উৎসবে মেতেছে সেনেগাল। ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, সংগঠকরাও যা নিয়ে উন্মাদনায় মেতেছিলেন। দুই মাস পর এসে জানতে হলো তার মালিক নাকি তারা নয়। হাস্যকর আশ্চর্য ঘটনা হলেও, বাস্তবে ঘটেছে এমনটা।
এ ঘটনার পর ফুটবল দুনিয়ায় এখন রীতিমতো তোলপাড় চলছে। প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ভক্ত থেকে শুরু করে সাবেক বর্তমান ফুটবলাররা। শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেনেগালের খেলোয়াড়েরা।
সবার আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। তারা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে অন্যায়, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছে। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টের দ্বারস্থ হবে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলা সেনেগালের ফুটবলাররাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। ফরাসী ক্লাব অলিম্পিক লিঁও’র ফুটবলার মুসা নিয়াখাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন এরা পাগল হয়ে গেছে। যা দিয়ে মূলত আফ্রিকান ফুটবল কর্তাদের ইঙ্গিত করেছেন। তাদের সিদ্ধান্ত যে একেবারে অযৌক্তিক ভাবে নিয়েছেন ফুটবলাররা তা তাদের প্রতিক্রিয়ায় দৃশ্যমান।
সান্ডারল্যান্ডের সেনেগালিজ মিডফিল্ডার হাবিব দিয়ারা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনটি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি ট্রফি হাতে উৎসব করছেন। পাশাপাশি তিনি ডাকারে সাত ঘণ্টার প্যারেডের একটি ভিডিও শেয়ার করেন।
স্প্যানিশ ক্লাব রায়ো ভায়েকানোর হয়ে খেলা পাথে সিসও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রফি হাতে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন এবং সঙ্গে পাঁচটি হাসির ইমোজি ব্যবহার করেছেন। আফ্রিকার ফুটবল কর্তাদের এমন সিদ্ধান্ত যে কোনোভাবেই তারা মেনে নিতে পারছেন না।
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইনজীবী ও ফিফা এজেন্ট আদেদেজি আজোয়ে ইসরায়েল। তার মতে, সেনেগালের ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার শক্ত গ্রাউন্ড আছে।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। সেনেগালের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার অনেকগুলো যৌক্তিক কারণ আছে। আফ্রিকার ফুটবল এখনো উন্নয়নশীল। একইভাবে অনেক নিয়মও আছে যা বিশ্বের অন্য কোথাও নেই। যে কারণে আমরা এমন সিদ্ধান্ত দেখেছি। এই বিষয়গুলোর পরিবর্তন আনা দরকার।’
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনও, তারা জানিয়েছে আপিলের উদ্দেশ্য পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছিল না। বরং তারা চেয়েছে, প্রতিযোগিতার নিয়ম যেন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এমন সিদ্ধান্তে মরক্কোও যে কিছুটা অবাক হয়েছে তা তাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রতীয়মান হয়। তবে কি উদ্দেশ্যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে কাফ এমন দৃষ্টান্ত তৈরী করলো সে বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
