হঠাৎ স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন কেন?

 

বিশ্ববাজারে বড় ব্যবধানে কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। এর প্রভাবে দেশের বাজারেও মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) স্পট স্বর্ণের দাম ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৭ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে। আর স্পট রুপার দাম ১০ দশমিক ১২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ হাজার ৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী ডলার এবং ক্রমবর্ধমান ট্রেজারি ইল্ডের চাপে স্বর্ণের দাম এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতি, যা মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণকে আরও কমিয়ে দিয়েছে।

স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, শক্তিশালী ডলার এবং সর্বশেষ এফওএমসি বৈঠকের পর ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের আরও কঠোর মনোভাবের কারণে ৫ হাজার ডলারের নিচের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্তর ভেঙে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম তীব্রভাবে কমেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জাপানের শীর্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বুধবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাদের আশঙ্কা, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।

ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরো অঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ীভাবে বাড়লে তারা সুদের হার বাড়াতে প্রস্তুত থাকবে-এমন বার্তা দেবে।

যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। কারণ এতে স্বর্ণের বার ধরে রাখার খরচ বাড়ে এবং মুনাফা-প্রদানকারী সম্পদ থেকে আয় বাড়ে।

ইসরাইলের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। তেলের দাম বাড়লে তা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে, কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। এতে ফেড দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি রাখতে উৎসাহিত হতে পারে।

উইজডমট্রি’র পণ্য কৌশলবিদ নিতেশ শাহ বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এটি স্বর্ণের দামের জন্য শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। তাই স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা থাকলেও বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও বড় ব্যবধানে কমছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও।

আজ ১৯ মার্চ একদিনেই টানা ২ দফা কমানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে কমানো হয়েছে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা ও ৭০০ টাকা।

ঘন ঘন দাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস শুধু দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।

তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ হলো পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেরও দাম সমন্বয় করা হয়।

বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে পৃথিবীর বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুত করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

Read Previous

প্রকাশ পেল ‘প্রিন্স’র নতুন গান

Read Next

দেশের আকাশে ওঠেনি চাঁদ, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular