দেশে হঠাৎই বেড়েছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি করা হচ্ছে হাম আক্রান্তদের। অনেক রোগীর মৃত্যু হওয়ায় রোগটি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।
হাম কী?
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগ দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনে ছড়ায়। অত্যন্ত সংক্রামক এ রোগটি জার্মান মিজলস, মাম্পস, রুবেলা নামেও পরিচিত।
হাম আক্রান্তের প্রক্রিয়া
অ্যাপোলো হসপিটালের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, শরীরে হামের ভাইরাস প্রবেশের পর তা দ্রুত গলা, ফুসফুস, লিম্ফ নোডের মতো অঞ্চলে বৃদ্ধি পায় এবং পরে চোখ, মূত্রনালী, রক্তনালী এমনকি মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ভাইরাস সংস্পর্শে আসার ৯ থেকে ১১ দিন পরে শরীরে হামের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে।
হামের লক্ষণ
হাম আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত), সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং এরপর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
হাম হলে করণীয়
হাম হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। বাড়িতে বিশ্রামে থাকা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া জরুরী। এ সময় রোগীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। রোগীকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর ভেজা তোয়ালে/গামছা বা নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। বেশি জ্বর, বমি ও শরীরে চুলকানি ও ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ থেকে হবে।
হাম হলে কী খেতে হবে
হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বলছেন, হাম রোগীর দ্রুত আরোগ্য পেতে ডায়েট লিস্ট বা খাবার তালিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রোগীকে স্বাভাবিক সব খাবার দিতে হবে। পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের পাশাপাশি রোগীকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ডায়েটে কিছুক্ষণ পর পর তরল খাবারের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় কমলা, তরমুজ, ডাবের মতো ফলগুলো রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
হাম আক্রান্ত রোগীর সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা না হলে এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন এমনকি মস্তিষ্কে ম্যালিডাইসিস রোগ হতে পারে। তাই এ রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নেয়া খুব জরুরি। ভবিষ্যতে এ রোগ থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিন বা টিকার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
