ঘরের কাজ নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে রাগ নয়

 

দাম্পত্য জীবনে ছোট ছোট বিষয় থেকেই বড় দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘরের কাজের অসম বণ্টন অনেক সম্পর্কের ভেতরে অদৃশ্য চাপ তৈরি করে।

অনেক সময় একজন সঙ্গী মনে করেন তিনি সব দায়িত্ব একা বহন করছেন, অন্যদিকে আরেকজন ভাবেন তিনি যথেষ্টই করছেন।

এই ভুল বোঝাবুঝি থেকেই জন্ম নেয় বিরক্তি, ক্লান্তি এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন- রাগ বা দোষারোপ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং প্রয়োজন বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং সচেতন পরিবর্তন।

ঘরের কাজের অসমতা

ঘরের কাজের ভারসাম্যহীনতা অনেক পরিবারেই দেখা যায়। নারী বাইরে কাজ করলেও ঘরের অধিকাংশ দায়িত্ব তার ওপরই থাকে।

সন্তান লালন-পালন, রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা- সব মিলিয়ে চাপ তৈরি হয়। যা মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই চাপ থেকে জন্ম নেয় ক্ষোভ, যা ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব বাড়ায়।

মার্কিন ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী ডা. ইয়েলেনা কেচমানোয়েচ সিএনএন ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এই অসমতা শুধু একজনকে ক্লান্ত করে না, বরং পুরো সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়। এতে দাম্পত্য সন্তুষ্টি কমে, মানসিক চাপ বাড়ে এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়।”

দোষারোপ নয়, বোঝার চেষ্টা

অনেক সময় যারা বেশি কাজের চাপ অনুভব করেন, তারা মনে করেন তাদের সঙ্গী ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী মনোবিজ্ঞানী ডা. মর্গান কাটলিপ মনে করেন- অধিকাংশ পুরুষই ‘নিষ্ক্রিয় কিন্তু আগ্রহী অংশীদার’- অর্থাৎ তারা পরিবর্তন করতে চান, তবে কীভাবে করবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না।

এই জায়গায় এসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

যদি ধরে নেওয়া হয় যে সঙ্গী ইচ্ছা করে নয়, বরং অভ্যাস বা পরিবেশের কারণে এমন আচরণ করছেন, তাহলে আলোচনাটা অনেক সহজ হয়।

ছোটবেলা থেকে সমাজ ও পরিবারে যে ভূমিকা শেখানো হয়, তা মানুষের আচরণে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। তাই একে অপরকে দোষারোপ না করে, সেই অভ্যাসগুলো বুঝে পরিবর্তনের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

সবার জন্য ইতিবাচক ফল

অনেকে মনে করেন ঘরের কাজ ভাগ করলে শুধু নারীর-ই উপকার হয়।

তবে গবেষণা বলছে- এটি পুরুষদের জন্যও সমানভাবে উপকারী।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড্যানিয়েল কার্লসন বলেন, “যেসব পরিবারে কাজের সমতা থাকে, সেখানে পুরুষরা বেশি সুখী থাকেন, অপরাধবোধ কম থাকে এবং সম্পর্কের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়ে।”

ইতিবাচক যোগাযোগের গুরুত্ব

দাম্পত্য জীবনে অনেক সময় অভিযোগ এমনভাবে প্রকাশ করা হয়, যা অপরজনের কাছে আঘাতের মতো শোনায়।

এতে প্রতিরোধ তৈরি হয়, আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। এই চক্র ভাঙতে হলে প্রয়োজন ইতিবাচক যোগাযোগ।

ডা. ইয়েলেনা কেচমানোয়েচ পরামর্শ দেন, “কঠিন আলোচনা শুরু করার আগে নিজের ভেতরের শক্তি ও মূল্যবোধকে মনে করা উচিত। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং কথোপকথন আরও শান্ত ও গঠনমূলক হয়।”

একই সঙ্গে সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট ধন্যবাদ, প্রশংসা বা স্বীকৃতি সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।

Read Previous

হাজার গোলের ঠিকানায় মেসিকে দেখছেন স্কালোনি

Read Next

ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১

Most Popular