ইরানের তিনপাশের আকাশছোঁয়া পাহাড় এবং ভেতরের বিশাল মরুভূমি দেশটিকে প্রাকৃতিক দুর্গের মতো রক্ষা করে। এমন দুর্গম পথে ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে, যুদ্ধ জয় করা যেকোনো বাহিনীর জন্য প্রায় অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মূলত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই ইরানকে জয় করা অত্যন্ত কঠিন।
সম্প্রতি ইরানে স্থল অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সমরবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বিশাল দেশটিকে আকাশ থেকে আক্রমণ করা যতটা সহজ, বাস্তবে এর মাটিতে পা রাখা ততটাই কঠিন। কারণ ইরানের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি মূলত একটি বিশাল মালভূমি, যা চারপাশ থেকে আকাশছোঁয়া পাহাড় দিয়ে ঘেরা।
দেশটির পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তজুড়ে রয়েছে অজেয় প্রাচীরের মতো প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাগ্রোস পর্বতমালা। এখানে অনেক শৃঙ্গ আছে যা ৪,০০০ মিটারেরও বেশি উঁচু।
কোনো বিশাল সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক বা ভারী সরঞ্জাম নিয়ে এই পাহাড় ডিঙিয়ে মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। আর উত্তরে রয়েছে আলবোর্জ পর্বতমালা। এটি ইরানকে কাস্পিয়ান সাগর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এখানকার গিরিপথগুলো অত্যন্ত সরু এবং দুর্গম।
পাহাড়ের প্রাচীর পার হয়ে যদি কেউ ভেতরে ঢোকেও, তাকে স্বাগত জানাবে পৃথিবীর অন্যতম উত্তপ্ত এবং রুক্ষ দুটি মরুভূমি- দাশত-ই কাভির এবং দাশত-ই লুত। এই মরুভূমিগুলোতে দিনের বেলা তাপমাত্রা থাকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। বিশাল এই মরু অঞ্চলে কোনো শহর বা জনপদ নেই, যা শত্রুবাহিনীর রসদ সরবরাহের পথকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
ইরানের ভেতরে ঢোকার রাস্তাগুলো খুবই সরু। কোনো সেনাবাহিনী এসব রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করলে ওপর থেকে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এখানে প্রযুক্তির চেয়ে ভূ-প্রকৃতি বড় শক্তি। ইরানের এই পাহাড়ি এলাকায় গেরিলা যুদ্ধ চালানো খুবই সহজ।
ইরানি সেনারা দশকের পর দশক ধরে এই পাহাড়গুলোতে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের চেয়েও কয়েকগুণ বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে যেকোনো আক্রমণকারীকে।
