ভারতের আসামে আঘাত হানা একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৪৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে (বিএসটি) এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের অক্ষাংশ ২৪.৮১° উত্তর এবং দ্রাঘিমা ৯২.৬২° পূর্ব এলাকায়। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মূল কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ছিল উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং ছাতকসহ আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল শিলচর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
শিলচর ছাড়াও ভারতের আসামের বিভিন্ন স্থান ও বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজারসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় এ কম্পন অনুভূত হয়।
বিকেলের এই হঠাৎ কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শহর এলাকার উঁচু ভবনের বাসিন্দারা দ্রুত ঘর ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে আবহাওয়া অধিদফতর এই ভূমিকম্পকে ‘হালকা’ শ্রেণিভুক্ত করেছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভারতের আসামে হলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে জানমালের কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
