মৌসুমের শেষ ভাগে এসে এবার হোঁচট খেলো আর্সেনাল। পুরো ম্যাচে বিবর্ণ ফুটবল খেলে শেষমেষ হেরে গেলো বোর্নমাউথের বিপক্ষে। গানার্সদের এই হারে জমে উঠল প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই, ব্যবধান কমানোর একটা সুযোগও পেয়ে গেলো ম্যানচেস্টার সিটি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) এমিরেটস স্টেডিয়ামে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে আর্সেনাল। ভিক্তর ইয়োকেরেশের গোলে সমতায় ফিরলেও হার এড়াতে পারেনি মিকেল আর্তেতার দল। ৩০ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে গানার্সরা। সমান ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে আছে ম্যানচেস্টার সিটি।
টানা চার ম্যাচ জয়ের পর প্রিমিয়ার লিগে হারের মুখ দেখলো আর্সেনাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে তৃতীয়বার হারলো তারা। এর মধ্যে আছে এফএ কাপ ও লিগ কাপে পরাজয়। এই দুই টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিয়েছে আর্তেতার দল।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল। আন্দ্রিয়াঁ ত্রুফেরের একটি ক্রস প্রতিহত করতে গিয়ে ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবার পায়ে লেগে বল দূরের পোস্টের দিকে চলে যায়। সেখানে সুযোগ বুঝে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড জুনিয়র ক্রুপি।
এই গোলের মাধ্যমে ক্রুপি গড়লেন দারুণ এক কীর্তি-প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক মৌসুমেই ১০ বা তার বেশি গোল করা মাত্র চতুর্থ কিশোর ফুটবলার হিসেবে নাম লেখালেন তিনি।
৩৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমায় আর্সেনাল। স্পট কিক নিতে এসে দারুণ গতির শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইয়োকেরেশ- দিক ঠিক থাকলেও বলের গতি সামলাতে পারেননি বোর্নমাউথের গোলকিপার। এর আগে ডি-বক্সে রায়ান ক্রিস্টির হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টির সুযোগ পায় আর্সেনাল।
বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। ৬৫তম মিনিটে আবারও বল জালে জড়ান ইয়োকেরেশ, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর ৭৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় বোর্নমাউথ। ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে সামান্য এগিয়ে জোরাল শটে গোল করেন অ্যালেক্স স্কট। শটটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে আর্সেনালের গোলরক্ষক দাভিদ রায়ার কিছুই করার ছিল না।
শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্সেনাল এবং কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ভালো জায়গা থেকে হেড করেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন ইয়োকেরেশ। পরের মিনিটে তার আরেকটি চেষ্টা যায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে, ফলে হতাশাই সঙ্গী হয় লন্ডনের দলটির।
