শরীয়তপুরের আংগারিয়া খাদ্য গুদামের চাল পরিবহন নিয়ে সমালোচনার পর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনেওয়াজ আলমকে বদলির আদেশ পাঠিয়েছে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। তাকে শরীয়তপুর সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা থেকে মুন্সিগঞ্জের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে বদলির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন সই করা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলমারা অন্তত ৪০০ বস্তা চাল কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি শহরের পালং মডেল থানা সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে চালগুলো কালোবাজার বিক্রির উদ্দেশ্যে বের হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা অন্তত দুই দফায় ট্রাকসহ চালগুলো আটক করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ ট্রাকসহ চালগুলো থানার গেটে দাঁড় করিয়ে রাখে।
পুনরায় চালগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও ওই চাল চৌরঙ্গী এলাকায় আটকে দেয় স্থানীয় জনতা। পরে রাত ১২টা নাগাদ চৌরঙ্গী এলাকায় এসে ট্রাকসহ চালগুলো গুদামে নেওয়ার চেষ্টা চালান সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনেওয়াজ আলম। পরবর্তী সময়ে তিনিও স্থানীয়দের বাঁধার মুখে চলে যান। মধ্যরাতে চালগুলো ট্রাকে করে জেলা খাদ্য গুদামে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনেওয়াজ আলমের বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তরিকুল ইসলাম, জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
বিষয়টি নিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা এরইমধ্যে বদলির আদেশ পেয়েছি। প্রশাসনিক কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
