সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামে নিশ্চিত এবং উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং দুই শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকার, দুজন সিলেটের, দুজন চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর।
একই সময় ১ হাজার ১১৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৪৯৬ জনই ঢাকার। হামের উপসর্গ নিয়ে একই সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। যার ৩৫৮ জনই ঢাকার। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯২। যার মধ্যে ৭৮ জনই ঢাকার।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ছেড়েছে ৭২৪ শিশু। ছাড় পাওয়া ৩৩ শিশু বরিশালের, ১১০ শিশু চট্টগ্রামের, ৩৫৩ শিশু ঢাকার, ৬০ শিশু খুলনার, সাত শিশু ময়মনসিংহের, ১১৩ শিশু রাজশাহীর, চার শিশু রংপুরের, ৪৪ শিশু সিলেটের।
এর আগে গত রোববার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৭২ শিশুর।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ পাওয়া ২০ হাজার ৩৫২ শিশুর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ১২৯ শিশু। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১০ হাজার ৪৯৬ শিশু বাসায় ফিরেছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। পরে ১২ এপ্রিল ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেয়া শুরু হয়। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।
