গোলরক্ষক উনাই মারেরোর বীরত্বে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হৃদয় ভাঙলো রিয়াল সোসিয়েদাদ। ফাইনালের মঞ্চে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানের জয়ে কোপা দেলরে’র শিরোপা ঘরে তুলেছে হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু। ৫ মৌসুম পর স্পেনের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে পেল্লেগ্রিনি মাতারাজ্জোর সোসিয়েদাদ। অন্যদিকে শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনাকে বিদায় করা অ্যাতলেটিকোর।
সেভিয়ায় একপাশে হৃদয় ভাঙার নীল বেদনায় বিবর্ণ অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। অন্যপাশে রিয়াল সোসিয়েদাদের উল্লাস। ২০১৯-২০ মৌসুমের পর চতুর্থবারের মতো স্পেনের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে তারা। সোসিয়াদের হয়ে অনন্য কীর্তি গড়ায় দিনটা বিশেষ ছিল কোচ পেল্লেগ্রিনি মাতারাজ্জোর জন্যেও। যুক্তরাষ্র্টের প্রথম কোনো কোচ হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে কোনো শিরোপার ফাইনালে জিতলেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমের পর থেকে কোপার শিরোপা না জিততে পারা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
অথচ ফাইনালের আগে নিশ্চিত ফেবারিট ছিল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। মাত্রই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই দলটাই লিগ শিরোপার পথে থাকা বার্সেলোনাকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করেছে। অথচ তাদেরই কোপা দেলরেতে হারিয়ে দিল সোসিয়েদাদ। সেভিয়ার মাঠে কিক অফের ১৪ সেকেন্ডে গোল করে চমকে দেন আন্দের বারেনেক্সিয়া। অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষক চেষ্টা করেও প্রতিহত করতে পারেননি। কোপা দেলরের ফাইনালে গড়েন দ্রুততম গোলের রেকর্ড।
১৯ মিনিটে সমতা ফেরান আদেমোলা লুকমান। গ্রিজম্যানের পাসে সোসিয়েদাদের ফুটবলারদের বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারো লিড নেয় সোসিয়েদাদ। অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষক মুসো গেদেসের ঘাড়ে আঘাত করায়, পেনাল্টি পায় সোসিয়েদাদ। সুযোগ পেয়েই তা লুফে নিয়ে গোল করেন অধিনায়ক ওইয়ারসাবাল।
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক সুযোগ পেলেও কোনটিই কাজে আসেনি অ্যাতলেটিকোর। অবশেষে পিছিয়ে পড়া দলকে ম্যাচে ফেরান হুলিয়ান আলভারেজ। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের গোলে নির্ধারিত সময় শেষ হয় ২-২ গোলের সমতায়। অতিরিক্ত সময়ে চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি দু’ল। অবশেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ভাগ্যের মঞ্চে শুরুতেই দিয়াগো সিমিওনের অ্যাতলেটিকোকে হতাশ করেন সরলথ। পরের শটেও আলভারেজকে রুখে দিয়ে নায়ক বনে যান সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক উনাই মারেরো। অ্যাতলেটিকোর হয়ে গোল করেছেন গনজালেজ, আলমাদা ও বানেয়া।
সোসিয়েদাদের হয়ে শুধু মিস মিস করেছেন অসকারসন। বাকি চার শটে গোল করেছেন সোলের, সুসিচ, মুনোজ ও মারিন।
