‘আমানত’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে: ভরসা করা, আস্থা রাখা। আমানত রক্ষা করা অপরিহার্য দায়িত্ব। আমানত শব্দের বিপরীত শব্দ খেয়ানত। খেয়ানত করা মুনাফিকের লক্ষণ।
মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতসমূহ প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও। আর যখন মানুষের বিচার-মীমাংসা করবে তখন ইনসাফভিত্তিক মীমাংসা কর। আল্লাহ তোমাদের সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী। (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)
পরিভাষায় কারও কাছে কোনো অর্থ-সম্পদ, বস্তুসামগ্রী গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয়। যিনি গচ্ছিত বস্তুকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে সংরক্ষণ করেন, যথাযথভাবে হেফাজত করেন এবং মালিক চাওয়ামাত্রই কোনো টালবাহানা ছাড়া ফেরত দেন, তাকে আল আমিন তথা বিশ্বস্ত সত্যবাদী বা আমানতদার বলা হয়। (আল মুজামুল ওয়াসিত : ২৭-২৮)।
জীবনের সর্বক্ষেত্রেই আমানত রক্ষা করতে হবে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিটি স্তরে প্রতিটি বিষয়ে আমানত রক্ষা করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লেনদেনের আমানত, কথার আমানত যেসব বিষয় প্রকাশিত হলে বা যেসব কথা বললে পারস্পরিক সম্পর্ক অবনতি ঘটবে, মনোমালিন্য ও সংঘাত সৃষ্টি হবে, এমন বিষয় প্রকাশ না করা এবং না বলাও আমানত। সর্বক্ষেত্রে আমানত রক্ষা করা একজন মুমিনের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আমানতদারিতা মুমিনের অন্যতম গুণ। ইসলামে আমানত রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
প্রকৃত মুমিন তারাই, যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকারের প্রতি যত্নবান। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৮)।
যার আমানত নেই তার ঈমান নেই। আমানতদারিতা ঈমানের বড় অংশ। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ উপদেশ খুব কমই দিয়েছেন, যাতে এ কথা বলেননি,
যার আমানত নেই, তার ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকারের মূল্য নেই, তার দ্বীন নেই। (মুসনাদে আহমদ: ১২৫৬৭)।
খেয়ানতকারীর শাস্তি
আমানতের আত্মসাৎকারী মুনাফিক। মুনাফিকদের ব্যাপারে এরশাদ হয়েছে ‘নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৫)। তাই আমানতের খেয়ানত বা আত্মসাৎ করা মারাত্মক গুনাহ ও জঘন্য অপরাধ, যা মহান আল্লাহ ক্ষমা না করলে আদৌ ক্ষমা হবে না। খেয়ানতকারীকে অবশ্যই জাহান্নামে যেতে হবে।
