ভারতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাবে না পাকিস্তান

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান নারী ফুটবল দল। বলা ভালো অংশ নিতে পারছে না। ভারতের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তাদের দল দেশটিতে ভ্রমণের অনুমতি পায়নি বলে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের (পিএফএফ) কর্মকর্তারারা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) পিএফএফ’র এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) পাইনি।’

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগামী আসর আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ভারতের গোয়া রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পাকিস্তান সাফের সদস্য দেশ হলেও তারা এই আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

কোনো ক্রীড়া দল বা খেলোয়াড় বিদেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু দুই প্রতিবেশী দেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্কের কারণে উভয় দেশের ক্রীড়াবিদদের পারস্পরিক যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সাফ পাকিস্তানকে বাদ দিয়েই বাকি ছয় দলকে নিয়ে টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করে। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আর গ্রুপ ‘বি’ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভারত ও মালদ্বীপ।

টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে, যেখানে আগে পুরুষদের আসরও হয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের যুদ্ধ ও বৈরিতার ইতিহাস রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশ প্রায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, এ সময় চার দিন ধরে সীমান্তে সংঘর্ষ চলেছিল।

প্রায় ৭৮ বছরের এই বৈরিতা ক্রীড়াক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে বিভিন্ন সময়ে টুর্নামেন্ট বয়কট, ম্যাচ বাতিল এবং মাঠে বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে।

গত বছর আগস্টে ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি নতুন নীতি ঘোষণা করে, যেখানে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের পাকিস্তানে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া এবং পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদদের ভারতে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিতে আসা দুটিই নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে দুই দেশই একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে, যদিও দুই দেশের কোনো একটি আয়োজক হলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এমন এক সময়ে টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে, যা ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহালগাম হামলার বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যায়। এই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা জোরালোভাবে অস্বীকার করে।

২০১০ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি দুই বছর অন্তর এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে নেপালে আসর বসে, যেখানে ফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে নেপালকে হারায়। সেই আসরে পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে ৫-২ গোলে হারে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ড্র করে, ফলে তারা নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়।

২০১৪ সালের আসরটি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ফাইনালে ভারত নেপালকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতে। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে আয়োজনের পর এবারই দ্বিতীয়বারের মতো ভারত এই আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হচ্ছে।

Read Previous

বিটরুটে লুকিয়ে আছে যেসব পুষ্টিগুণ

Read Next

ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষেধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular