ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারকে ‘ক্যাসিনো’ মনে করে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শেয়ারবাজার তার ‘ফেভারিট সাবজেক্ট’, তবে বর্তমানে অনেক ভালো কোম্পানি বাজারটিকে ‘ক্যাসিনো’ হিসেবে মনে করে, যা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার তো আমার একটা ফেভারিট সাবজেক্ট। বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে ধ্বংস হওয়ার কারণ কী? সবাই উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে, দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দিয়েছে উচ্চ সুদে। বড় প্রজেক্টে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া ক্ষতিকর। এটা নেওয়ার কথা ছিল পুঁজিবাজার থেকে। আমাদের পুঁজিবাজার তো নেই। যেটার জন্য একদিকে বিপদে পড়েছে ব্যাংক, অন্যদিকে বিপদে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। উচ্চ ব্যয়ে ঋণ করেছে, এখন এটা পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো বিপদে পড়েছে কারণ তারা পরিশোধ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের ওপর আমাদের বড় ধরনের প্রোগ্রাম আছে, একটু অপেক্ষা করেন দেখতে পারবেন। আমাদের পুঁজিবাজার পুরোপুরি সংস্কার হবে। যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। কারণ ভালো কোম্পানি আসতে চায়। যারা ভালো কোম্পানি তারা এটাকে ক্যাসিনো মনে করে। ক্যাসিনোতে কোনো ভালো কোম্পানি তো যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা একদিকে, অন্যদিকে যারা তালিকাভুক্ত হবে তাদের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। ডিরেগুলেট একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছাড়া পুঁজিবাজার গ্রো করে না। রিটেল ইনভেস্টর দরকার, কিন্তু ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া বড় ধরনের ক্যাপিটাল মার্কেট কোনো দিনও হতে পারে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশিরা যারা ফান্ড ম্যানেজার আছে, বিদেশি বিনিয়োগকারী আছে যারা ইমার্জিং মার্কেটে আসতে চায়, তাদের অ্যাট্রাক্ট (আকৃষ্ট) করার জন্য একটা প্রোগ্রাম চলছে, খুব সহসা। আমরা একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি, তিনি পুঁজিবাজারের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমার সব সহায়তা তার জন্য থাকবে। আপনারা চেঞ্জ দেখতে পারবেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন পুঁজিবাজার খালি বেসরকারি খাতের অর্থ নেওয়ার জন্য না। সারাবিশ্বে উন্নত দেশগুলোতে পুঁজিাবাজরে গভর্নমেন্ট বন্ড, মিউনিসিপাল বন্ড চলে এসেছে। সরকার টাকা এখান থেকে নেবে। আপনি বিমান চালাবেন, এটা তো একটা এন্টারপ্রাইজ। এখানে কেন সরকারের তহবিল থাকবে। আপনি বিমান কোম্পানি মার্কেটে যান এবং সেখান থেকে ঋণ করেন।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা আশা করছি আগামীতে অনেকগুলো কাজের অর্থ সরকারের তহবিল থেকে দিতে হবে না। তাহলে সরকারের তহবিল খরচ হতে হবে অবকাঠামো ডেভেলপমেন্টের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য, তাদের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার জন্য। সরকারি তহবিলের অগ্রাধিকার তো ওখানে থাকা উচিত। এই যে ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট, বাজেটিং এগুলোকে নতুন কনসেপ্টের দিকে আমরা যাওয়ার চেষ্টা করছি, আপনাদের সহযোগিতা লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি শেয়ার, আসলে সরকার তো কোনো ব্যবসা করে না। সরকারি শেয়ার যে আছে এগুলো আগ থেকেই, সরকার তো ব্যবসায়ী না। শেয়ার, ইনস্টিটিউশনগুলো থাকবে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে। সরকারের কাছে শেয়ার থাকার কথা না। এটা আমরা বিবেচনা রেখেছি, কারণ সরকারের তো টাকারও প্রয়োজন আছে। সরকারি শেয়ারের দ্বারা কিছু মানুষ লাভবান হয়, যারা এখানে বোর্ডে বসে। তারা সুবিধা পায়, তারা একটা গাড়ি ব্যবহার করে। তারা ছাড়া খুব বেশি লোক লাভবান হয় আমি মনে করি না। এটা আমরা বিবেচনা করছি।

তিনি বলেন, আমরা আর একটা চিন্তা করছি, সরকারি সম্পদগুলো সিকিউরিটাইজ করার জন্য। যেমন যমুনা ব্রিজ, যমুনা ব্রিজ কিন্তু পেমেন্ট শেষ হয়ে গেছে। যমুনা ব্রিজের কোনো দায় নেই। কিন্তু এটা যদি আমি সিকিউরিটাইজ মানি, এটার ভবিষ্যৎ ইনকামকে সিকিউরিটাইজ মনে করি। আমরা টাকা পাই, এটার দিকে আমরা আলোকপাত করবো। ওটাকে আমরা সিকিউরিটিজের দিকে যাচ্ছি। আসলে পুঁজিবাজারে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আনা ছাড়া এ অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব না।

Read Previous

দূরপাল্লার বাসযাত্রার ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, বাড়ল কোন রুটে কত?

Read Next

ব্যাংক রেজুলেশন আইনে ব্যাংকিং খাত আবারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular