সাধারণ যাত্রী পরিবহনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে সারা দেশে মাদকের বড় চালান পাচার করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অবশেষে এই চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় বাসের সিটের নিচে কৌশলে লুকানো ৩৪ হাজার ইয়াবাও জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, চক্রটির মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে চেকপোস্ট ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট। পর্যটন নগরী হওয়ায় প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহন করে আসছিল।
র্যাব জানায়, ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে মাদকের বড় চালান যাচ্ছে খবর আসে। এরপর চকরিয়ার খুটাখালী বাজার বাসস্টেশনের সামনে অবস্থান নেয় র্যাব। পরে ঢাকাগামী ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ নামে একটি বাস তল্লাশি করে বাসের এফ-১ সিটের নিচে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় ৩৪ হাজার ইয়াবা। এ সময় আটক করা হয় গাড়িচালক আবুল কালাম আজাদ ও যাত্রী রবিউল হোসেনকে।
সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর উপ-পরিচালক মেজর এস এম মারুফ।
তিনি বলেন, ‘চকরিয়ার খুটাখালী এলাকায় দাঁড়ানো অবস্থায় থাকা ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসে তল্লাশি চালিয়ে এফ-১ সিটের নিচ থেকে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আটক করা হয় বাসচালক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং যাত্রী মো. রবিউল হোসেন ওরফে রবিকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সাধারণ যাত্রী পরিবহনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক পাচার করে আসছিল।’
এ দিকে, সম্প্রতি সাগরপথে ট্রলারে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের ঘটনাও বেশ আলোচনায়। সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, মানবপাচার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে তারা।
র্যাব-১৫ এর উপ-পরিচালক মেজর এস এম মারুফ বলেন, ‘মানবপাচার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা পরে মানবপাচারের শিকার হন বা এ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন, তাদের অনেকেই ভালো চাকরি, বিদেশে উচ্চ আয়ের প্রলোভন কিংবা উন্নত জীবনের স্বপ্নে স্বেচ্ছায় দালাল চক্রের ফাঁদে পা দেন। বারবার এমন ঘটনা সামনে আসার পরও অনেকেই একই ধরনের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়ান। তাই মানবপাচার রোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ও ধারাবাহিক ভূমিকা অব্যাহত থাকাও অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে মানবপাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
গত চার মাসে কক্সবাজারে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ইয়াবা, ১০ কেজি হেরোইন, ৪৭ কেজি গাঁজা ও দেশি-বিদেশি ১০টি পিস্তলসহ পাচারের উদ্দেশ্যে জিম্মি থাকা ৮২ জনকে উদ্ধার এবং ২৯৪ জনকে আটক করে র্যাব।
