নিউজিল্যান্ড করেছে ১৮২ রান। তাহলে বাংলাদেশের আর জেতা হচ্ছে না বা জিতলেও কিউইরা টাইগারদের নাভিশ্বাস বের করে ছাড়বে! যারা এমন ভেবেছিলেন, তাদের সবাইকে ভুল প্রমাণ করেছে লিটন দাসের দল। মিডলঅর্ডারের ব্যাটারদের ঝড়ে ১৮৩ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে তারা জিতেছে ৬ উইকেটে। সেটাও পাক্কা দুই ওভার হাতে রেখে।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সাইফ হাসান, লিটন দাস ও তানজিদ তামিমের বিদায়ে চাপে পড়লেও তাওহীদ হৃদয়, শামিম হোসেন ও পারভেজ হোসেন ইমনে বাংলাদেশের জয়টা এসেছে হেসেখেলে। এই জয়ে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ ২৯ এপ্রিল, ঢাকায় তৃতীয়টি ২ মে।
হৃদয়, শামিম ও ইমন কেবল বাউন্ডারি থেকেই আদায় করেছেন ৬০ রান। তাওহীদ হৃদয় তো হাফসেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরাই হয়েছেন। ২৭ বলে ৩ ছয় ও ২ চারের ইনিংসে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১৩ বলে ২ ছয় ও ৩ চারে শামিম ৩১ ও ইমন প্রায় আড়াইশ স্ট্রাইকরেটে ২৮ রান করেন। এই দুজন ছক্কা মেরেছেন দুটি করে।
রান তাড়ায় সাইফের ১৬ বলে ১৭ ও তানজিদ তামিমের ২৫ বলে ২০ রানের বিদায়ে বাংলাদেশ চাপেই পড়েছিল। এদের মাঝে আউট হওয়া লিটন অবশ্য ১৫ বলে ২১ রান করে দিয়ে যান। এরপর ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৭ রানের জুটি হয় হৃদয় ও ইমনের মধ্যে। দুজনেই ম্যাচের লাগাম বাংলাদেশের দিকে টেনে আনেন।
২৮ রানে ইমনের বিদায়ের পর নামা শামিম মোকাবিলা করা তৃতীয় বলেই এমন এক শট খেলেন, যা চক্ষু ছানাবড়া করার জন্য যথেষ্ট। নাথান স্মিথের শর্ট লেন্থের ডেলিভারি সোজা মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। নো-লুক শটে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে শামিম বল পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। আম্পায়ার দুই হাত উঁচিয়ে দেখান-ছয়।
শেষ ১৮ বলে দরকার ছিল ৩০ রান। ম্যাট ফিশারের দুই নো-বলের ওভারে শামিম-হৃদয় তুলেন ২৫ রান। তাতে বাংলাদেশ ম্যাচ সেখানেই জিতে যায়। পরের ওভারে হৃদয় তার হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২৬ বলের মাথায়।
নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছিল কেটিন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লিভারের দুই ফিফটিতে। ক্লার্ক ও ক্লিভার দুজনই করেছেন ৫১ রান করে। ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার রিশাদ হোসেন।
