২০১৩ থেকে ২০১৫; মাত্র দুই মৌসুম একসঙ্গে খেললেও শাভি হার্নান্দেজ এবং নেইমার জুনিয়রের জুটি বার্সেলোনার ইতিহাসে আলাদা ছাপ রেখে গেছে। এই সময়ে ক্লাবটি তাদের সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছাড়াও লা লিগা, কোপা দেল রে এবং সুপারকোপা দে এস্পানা জিতেছিল। মাঠে দু’জনের অসাধারণ প্রতিভার বার্সেলোনার এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছিল।
সম্প্রতি রোমারিও’র ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৬ বছর বয়সী জাভি নেইমারের বার্সেলোনায় প্রথম দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে নিজের মতামত দেন।
বার্সেলোনায় থাকাকালীন জাভি দলের খেলার গতি ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেন, আর নেইমার ছিলেন আক্রমণের মূল ভরসাদের একজন, যিনি ডিফেন্স ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করতেন। তার সঙ্গী ছিলেন লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজ। তিন তারকার দুর্দান্ত সমন্বয় লা লিগার ইতিহাসে অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছিল।
নেইমারের শুরুর দিনগুলো নিয়ে জাভি বলেন, ‘নেইমার প্রথম সপ্তাহে যা দেখিয়েছিল, তা ছিল মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি। ২১ বছর বয়সে বার্সেলোনায় এসে মেসির মতো এতটা কাছাকাছি কাউকে আমি দেখিনি।’
তিনি আরও জানান, কোচ থাকাকালীন তিনি নেইমারকে আবার দলে ফেরাতে চেয়েছিলেন (মেসি ও পেদ্রোর সঙ্গে), কিন্তু ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে ও ক্লাবের আর্থিক সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমার চেষ্টা করছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির আস্থা অর্জন করতে, যাতে তিনি আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে পারেন। তবে চোট ও ম্যাচ ফিটনেসের অভাব তার জন্য বড় বাধা হতে পারে।
মার্চ মাসে ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে নেইমারের নাম ছিল না। সেই সময় তিনি প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপির মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ছিলেন, যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার ফিটনেস ফিরে পান।
আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সম্ভাবনা নিয়ে জাভি বলেন, ‘ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। প্রথমত আনচেলত্তি আছেন, তিনি খেলোয়াড়দের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বিশ্বকাপে ব্রাজিল সবসময় শক্তিশালী দল।’
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য ফেভারিট দল হলো স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও পর্তুগাল। জার্মানিকে তিনি তুলনামূলকভাবে কম ফেভারিট হিসেবে দেখছেন, আর ইংল্যান্ডও চমক দেখাতে পারে।
স্পেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জার্সিতে দুইটা তারকা (বিশ্বকাপ জয়) যোগ হলে দারুণ হবে। আমরা এমন একটি দেশ, যেখানে ফুটবল প্রাণের মতো। লুইস দে লা ফুয়েন্তে দারুণ কোচ।’
এছাড়া ব্রাজিলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জাভি কথা বলেন, ‘কেন নয়? আমি যেকোনো বড় প্রজেক্টের জন্য প্রস্তুত; ক্লাব হোক বা জাতীয় দল। ব্রাজিল ফুটবলের আঁতুড়ঘর।’
অন্যদিকে, বিশ্রামের জন্য বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ মিস করার পর নেইমার ২৮ এপ্রিল কোপা সুদামেরিকানায় সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে আনচেলত্তি ১৮ মে চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন, সেদিনই জানা যাবে নেইমার শেষ পর্যন্ত দলে জায়গা পান কি না।
