ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনকে সামনে রেখে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধসহ চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার সীমিত করা হয়েছে। তবে এ সময়ে শুধুমাত্র পচনশীল পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে বুধবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাতায়াত ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সংক্ষিপ্ত করেছে ভারত সরকার।
এ দিকে টানা তিন দিন স্বাভাবিক বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত সিমিত করে দেয়ায় বাণিজ্য ও ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ভ্রমণ করতে না পেরে বেনাপোল বন্দরে আটকা পড়েছে তিন শতাধিক পাসপোর্টধারী।
সরেজমিনে চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, কারো মাথায় হাত, কারো চোখে-মুখে দুঃচিন্তা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধান সভা নির্বাচনে নিরাপত্তাজনিত কারণে হঠাৎ করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন বাংলাদেশি গুরুতর রোগী ছাড়া অন্যান্য পাসপোর্টধারীদের ঢুকতে না দেয়ায় সোমবার সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চত্বরে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণে স্থলপথে সবচেয়ে বেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সপ্তাহে ৭ দিনেই প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভ্রমণ করার সুযোগ রয়েছে।
তবে ২৩ থেকে ও ২৯ এপ্রিল ভারতে পশ্চিমবঙ্গে বিধান সভা নির্বাচনে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ ও বাণিজ্য সংক্ষিপ্ত করেছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪ আসনের জন্য দুই দফায় ভোট নেয়া হবে।
প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ তিন দিন কেবল গুরুতর রোগীদের যাতায়াত এবং পচনশীল পণ্য আমদানি-রফতানি হবে ভারত থেকে। অন্যান্য পণ্যের আমদানি-রফতানি ও সাধারণ পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত বন্ধ রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে বাংলাদেশে অবস্থান করা ভারতীয় নাগরিকরা ভোট প্রদানের জন্য ফিরতে পারবেন। ৩০ এপ্রিল থেকে স্বাভাবিক হবে যাতায়াত।
এ দিকে হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে ভারত ভ্রমণ করতে না পেরে বেনাপোল বন্দরে প্রায় ৩ শতাধিক পাসপোর্টধারী আটকা পড়েছেন।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, পেট্রাপোল বন্দর থেকে কেবল পচনশীল জাতীয় খাদ্যদ্রব্য আমদানি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্য ঢুকছে না। টানা ৩ দিন সাধারণ পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বেনাপোল বন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ সাইম আলম জানান, ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দরে অনেক পাসপোর্টধারী আটকা পড়েছে। কেবল মাত্র গুরুতর অসুস্থ যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারছেন। আটকে পড়া পাসপোর্টধারীদের মধ্যে মেডিকেল ভিসা, বিজনেস ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসার পাসপোর্টধারীরা রয়েছেন।
