চিলড্রেন লাইভস ম্যাটার শিরোনামে আয়োজিত নাগরিক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতি, শিশুমৃত্যু, টিকাদান কর্মসূচি, স্বাস্থ্যখাতের পরিস্থিতি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ চাইল্ড প্রোটেকশন ইনিশিয়েটিভ’ আয়োজন করে এ গোলটেবিল আলোচনা।
সভায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য গবেষক, নার্স, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একমত হন যে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব কেবল একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি, শিশু অধিকার সুরক্ষা, তথ্য স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সচেতনতার গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বক্তারা বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক টিকাদান, নজরদারি, জরুরি জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া এবং কমিউনিটি সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে বহু শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।
আলোচনায় উঠে আসে, গত কয়েক বছরে ভ্যাকসিন সংগ্রহ, টিকাদান কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের নজরদারি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা, কমিউনিটি সচেতনতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের দুর্বলতার কারণে বর্তমান সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিক শিশির মোড়ল উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী হাম প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশের বেশি ভ্যাকসিন কভারেজ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে কভারেজ কমে ৮১ থেকে ৮২ শতাংশে নেমে আসার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকাবঞ্চিত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফ আগেই হাম প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যথা সময়ে নেয়া হয়নি।
