যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি করলেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে দীর্ঘ সময় ধরে উপস্থিত থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান জানায়, ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ পেলে সেনাবাহিনী লেবাননে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে প্রস্তুত।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, সেনাবাহিনী লেবাননের সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরান শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগোচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা এখনও চলছে এবং এর পাশাপাশি উত্তর ইসরাইলের দিকেও গোলাগুলি চলছে।
এদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সমগ্র অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর এই প্রতিবেদনটি আসে।
মঙ্গলবার এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননে যুদ্ধের অবসান ঘটানো ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এতে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়, এতে ৩,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। তেহরান এর জবাবে উপসাগরীয় দেশ ও ইসরাইলের ওপর হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য একটি কাঠামো চুক্তি ঘোষণার আগে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইল ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর একটি আক্রমণ চালিয়ে আসছে, যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে; এর মধ্যে কিছু এলাকা কয়েক দশক ধরে এবং অন্যগুলো ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী যুদ্ধ থেকে তাদের দখলে। বর্তমান এই আক্রমণের সময় ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে ১০ কিলোমিটারেরও (৬.২ মাইল) বেশি অগ্রসর হয়েছে।
