দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিগত সময়ে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে তৃণমূলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী এখনো আইনি জটিলতার মুখোমুখি রয়েছেন। এমনই একটি ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সিলেট ছাত্রদলের নেতা জাকিরুল ইসলাম চৌধুরী। জানা যায়, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো রাজনৈতিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিভিন্ন সূত্র মোতাবেক, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘসময় মামলাটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকলেও গত ১৮ মে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এর তিন দিন পর, ২১ মে, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
জাকিরুলের পরিবারের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দায়ের করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন পর অভিযোগপত্র দাখিল ও পরবর্তী গ্রেফতারি পরোয়ানা তাদের কাছে উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হলেও মামলাটির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এলাকাবাসী জানায়, ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ২০১৮ এবং ২০২১ সালে জাকিরুল একাধিকবার হামলা ও হয়রানির শিকার হন। তাঁদের অভিযোগ, সেসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আশঙ্কা এবং চলমান মামলার কারণে তিনি নিয়মিত আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশ ত্যাগ করেন এবং এখনো বিদেশে অবস্থান করছেন।
জাকিরুলের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর থাকায় বর্তমানে তার দেশে ফিরে আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরোনো রাজনৈতিক মামলাগুলো পর্যালোচনার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করা হলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ধরণের মামলা প্রত্যাহার বা স্থগিত করার বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা বিচারিক নির্দেশনা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে আদালতের জারি করা পরোয়ানা এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
