গাজায় ইসরাইলি হামলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৪৩ জন আহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও বিরামহীন হামলা চলছে বলে অঞ্চলটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আল জাজিরা।
মন্ত্রণালয়ের দৈনিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২০৮ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গড়ে প্রতিদিন একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু ইসরাইলের হাতে নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা (ইউনিসেফ) জানিয়েছে।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবর ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে এবং ৪০০ জনের বেশি শিশু আহত হয়েছে।
অক্টোবর থেকে ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে; চুক্তি অনুসারে যে ৫৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণের কথা ছিল, তার চেয়ে বেড়ে এখন গাজার ৬৪ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজম জানিয়েছেন, গাজার পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ ইসরাইল এখনও এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলার মাত্রা ও গতি দেখে মনে হচ্ছে তারা গাজার ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে।
আজ শনিবার (২০ জুন) ভোরে গাজার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলা হয়েছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুসারে, একজন ফিলিস্তিনি বাবা এবং তার দুই মেয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন। আক্রান্তের পর স্ত্রীও আঘাতের কারণে মারা গেছেন।
পাড়ার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার আগে ইসরাইলিদের পক্ষ থেকে এলাকায় কোনো পূর্ব সতর্কতা দেওয়া হয়নি। এটি গাজাবাসীদের জন্য অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরির বর্তমান ইসরাইলি অভিযান কৌশলের প্রমাণ।
তারেক আবু আজমের ভাষ্য, ‘আমরা দেখেছি, ইসরাইল নির্দিষ্ট এলাকায় পরিকল্পিত হামলার আগে জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করছে। আবার কিছু এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’
আঞ্চলিক দেশগুলোর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান বাড়লেও ইসরাইল আরও বেশি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু তারা এসব আহ্বানকে পাত্তা দিচ্ছে না। বিশেষ করে যুদ্ধোত্তর যে কাঠামো ইসরাইলি সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে, তা তাদেরকে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা দিচ্ছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে কী ঘটছে?
অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে ওয়াফা নিউজ এজেন্সি এবং আমাদের মাঠকর্মীদের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ইসরাইলি বাহিনী গত রাতভর অভিযান চালিয়ে রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে দেইর আবু মিশাল এবং নাবলুসে পাঁচ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে। দেইর আবু মিশালে চারজন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তারা হলেন ফুয়াদ আবু সামরা, সামহান মুস্তাফা, আবদুল্লাহ আল-তাহিয়া এবং হাসান গারিব। নাবলুসে জাবাল ফাতায়ের এলাকায় একাধিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দিয়া মুহাম্মদ ফাতায়ের নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী রামাল্লাহের উত্তর-পূর্বে আল-মুগায়েরের শেষ অবশিষ্ট প্রবেশপথটি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি বেইত ফুরিক সমতলে কৃষকদের গম ফসল কাটতে বাধা দিয়েছে এবং ওই এলাকায় সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক মোতায়েন করেছে।
আজ শনিবার ভোরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। এদিকে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ান এলাকায় গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেটের জমির ওপর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে।
মন্ত্রণালয় সোমবারের এ ঘটনাকে মন্ত্রণালয় ‘গুরুতর আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা প্যাট্রিয়ার্কেটের প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেন, সরঞ্জাম জব্দ করেন, গাছ উপড়ে ফেলেন এবং এলাকাটি বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন।
