মহররম ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। রমজানের পর নফল রোজার ক্ষেত্রে এ মাসের বিশেষ ফজিলতের কথা রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই বর্ণনা করেছেন।
এ মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ ‘ইয়াওমে আশুরা’ ইতিহাস, ইবাদত ও আল্লাহর রহমতে পরিপূর্ণ এক মহিমান্বিত দিন। আশুরার দিনে রোজা রাখা, তওবা-ইস্তিগফার করা, দান-সদকা করা এবং বেশি বেশি নেক আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতেন সাহাবায়ে কেরাম (রা.)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন,
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ অর্থ: হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা বিগত এক বছরের (সগিরা) গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আশুরার দিনের গুরুত্ব এতটাই উপলব্ধি করতেন যে, তাঁরা নিজেরা রোজা রাখার পাশাপাশি নিজেদের সন্তানদেরও এ দিনের রোজায় অভ্যস্ত করে তুলতেন। বিখ্যাত নারী সাহাবী হজরত রুবাইয়্যি‘ বিনতে মুআববিয (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিন সকালে আনসারদের এলাকায় লোক মারফত এ খবর পাঠালেন,
‘যে আজ সকালে খেয়ে ফেলেছে, সে যেন সারাদিন আর কিছু না খায়। আর যে সকালে কিছু খায়নি, সে যেন রোজা পূর্ণ করে।’
তিনি বলেন, এরপর থেকে আমরা নিজেরাও এ দিনে রোজা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদেরও রোজা রাখতে উৎসাহিত করতাম। তাদের জন্য আমরা পশমের খেলনা বানিয়ে রাখতাম। তারা খাবারের জন্য কান্নাকাটি করলে খেলনা দিয়ে তাদের ব্যস্ত রাখতাম। এভাবেই ইফতার পর্যন্ত তাদের সময় কেটে যেত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৬০; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩৬)
আশুরার মূল রোজা ১০ মুহাররম। তবে আশুরার রোজা রাখার ক্ষেত্রে উত্তম হলো, ১০ মুহাররমের আগে বা পরে অর্থাৎ ৯ বা ১১ তারিখে আরও একটি রোজা রাখা। ৯ তারিখে রাখতে পারলে তা অধিক উত্তম। কারণ, হাদিসে ৯ তারিখের সঙ্গে রোজা রাখার নির্দেশনা এসেছে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন আশুরার রোজা রাখছিলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখতে বললেন, তখন সাহাবিগণ বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ দিনকে তো ইহুদি ও খ্রিস্টানরাও সম্মান করে।’ তখন নবীজী (সা.) বললেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামী বছর আমরা ৯ তারিখেও রোজা রাখব।’ কিন্তু পরবর্তী বছর আসার আগেই রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)
ইবনে আব্বাস (রা.) তাই বলতেন, ‘তোমরা ৯ ও ১০ মুহাররম রোজা রাখো এবং ইহুদিদের বিরোধিতা করো।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৭৫৫)
আশুরার রোজার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো ৯, ১০ ও ১১ মুহাররম এই তিন দিন রোজা রাখা। কারণ, মুহাররম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার ব্যাপারে সহিহ হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে। (ফাতহুল বারী, ৪/২৪৬)
তবে ৯ বা ১১ তারিখের সঙ্গে ১০ তারিখ মিলিয়ে অন্তত দুটি রোজা রাখা সুন্নতসম্মত ও উত্তম। আর কেউ যদি শুধু ১০ মুহাররমই রোজা রাখেন, তাহলেও তিনি আশুরার রোজার ফজিলত ও সওয়াব লাভ করবেন, ইনশাআল্লাহ।
