আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল মিরপুর, তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি

আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। তীব্র যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া ঝুম বৃষ্টি গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা নগরবাসীর দুর্ভোগে পরিণত হয়। বৃষ্টি শুরুর ২০ মিনিটের মাথায় মিরপুরের প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। আধা ঘণ্টার মধ্যেই অনেক সড়কের এক পাশ পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা যায় মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং আশপাশের এলাকায়। প্রধান সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের পাশে থাকা দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। কয়েকটি হাসপাতালেও পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শেওড়াপাড়া থেকে মিরপুর-১০ (সেনপাড়া) পর্যন্ত রোকেয়া সরণির এক পাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পুরো সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আগারগাঁও-মিরপুরসহ আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও। ফলে আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১০ নম্বরে যেতে অনেক যাত্রীর সময় লেগেছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা।

জলাবদ্ধতার কারণে অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য নিচু যানবাহনের ভেতরে পানি ঢুকে অনেকগুলো মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে। এতে যানজটের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।

এমন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। মিরপুর-১০ অভিমুখী এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘ড্রেনের পানি কোথায় আটকে থাকে, সেটা সিটি করপোরেশনই ভালো জানে।’

কাজীপাড়ার বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কিছুদিন আগেও ড্রেনের কাজ হয়েছে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে।’

খান স্টিল নামের একটি দোকানের মালিক বলেন, ‘দোকান উঁচু করেছি, তারপরও আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। পুরো রাস্তায় হাঁটুপানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা এলেই রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। যে কাজ শুকনো মৌসুমে ভালোভাবে করা সম্ভব, তা বর্ষাকালে কেন করা হয়, বুঝি না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে বিভিন্ন স্থানে খোলা ড্রেন ও গর্ত তৈরি হয়। বৃষ্টির পানিতে সেগুলো ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও যানজটের পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বৃষ্টির পানি নেমে গেলেও গাড়ির দীর্ঘ সারি ও ধীরগতির কারণে পুরো মিরপুর এলাকায় ভোগান্তি অব্যাহত ছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি জরুরি পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন থেকে দেয়া বিশেষ মোবাইল নম্বরটিতে কল করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

বছরের পর বছর ধরে চলা এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Read Previous

বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

Read Next

আর্জেন্টিনার খেলা দেখে ফেরার পথে মারধর, একদিন পর মারা গেলেন রাসেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular