গ্রীষ্ম মানেই রসালো, সুস্বাদু আমের মৌসুম। কিন্তু এই মৌসুম খুব অল্প সময়ের জন্যই থাকে। তাই বছরের অন্য সময়েও যদি পাকা আমের স্বাদ উপভোগ করতে চান, তাহলে এখনই সঠিক উপায়ে আম সংরক্ষণ করা জরুরি। সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করলে আম প্রায় এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। পরে সহজেই জুস, স্মুদি, মিল্কশেক, পুডিং, আইসক্রিম কিংবা বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। জেনে নিন পাকা আম সংরক্ষণের চারটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি।
১. টুকরো করে সংরক্ষণ
প্রথমে আমের খোসা ছাড়িয়ে আঁটির চারপাশ থেকে শাঁস কেটে ছোট ছোট টুকরো করুন। এরপর পরিষ্কার ও শুকনো একটি এয়ারটাইট বক্সে আমের টুকরোগুলো রেখে শক্তভাবে ঢাকনা বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনমতো বের করে ব্যবহার করতে পারবেন।
২. জিপলক ব্যাগে সংরক্ষণ
আম ছোট ছোট টুকরো করে কেটে একটি জিপলক ব্যাগে ভরে নিন। ব্যাগের মুখ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে সামান্য ফাঁকা রাখুন। এরপর একটি স্ট্র ঢুকিয়ে ভেতরের বাতাস বের করে ব্যাগটি সম্পূর্ণ সিল করে দিন। এতে আম দীর্ঘদিন সতেজ থাকবে এবং ফ্রিজে কম জায়গাও নেবে।
৩. পিউরি করে সংরক্ষণ
অতিরিক্ত পাকা আম সংরক্ষণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পিউরি তৈরি করা। আমের শাঁস ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ করে ব্লেন্ড করুন। এরপর আইস কিউব ট্রেতে ঢেলে ১০–১২ ঘণ্টা ডিপ ফ্রিজে রাখুন। জমে গেলে কিউবগুলো বের করে জিপলক ব্যাগে ভরে বাতাস বের করে ভালোভাবে সিল করে আবার ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। পরে প্রয়োজনমতো একটি বা দুটি কিউব ব্যবহার করা যাবে।
৪. আস্ত আম সংরক্ষণ
যদি পুরো আম সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে আমটি খবরের কাগজে মুড়িয়ে জিপলক ব্যাগ বা মুখবন্ধ প্লাস্টিক র্যাপে ভালোভাবে প্যাক করে ফ্রিজারে রাখুন। এতে আমের স্বাদ ও গুণাগুণ দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন থাকে।
আম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় টিপস
সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত পাকা আম নয়, বরং খানিকটা শক্ত ও দাগমুক্ত আম বেছে নিন।
যদি আম খুব বেশি পেকে যায়, তাহলে টুকরো না করে পিউরি বানিয়ে সংরক্ষণ করাই উত্তম।
বড় বক্সের পরিবর্তে ছোট ছোট এয়ারটাইট বক্স বা জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করুন। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণ আম বের করা সহজ হবে এবং বারবার পুরো বক্স ডিফ্রস্ট করতে হবে না।
দীর্ঘদিন আমের স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে মোরব্বা, আমসত্ত্ব বা আমের আচার তৈরি করেও সংরক্ষণ করতে পারেন।
সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করলে মৌসুম শেষ হলেও পাকা আমের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। সামান্য যত্ন ও সঠিক সংরক্ষণ কৌশল অনুসরণ করলেই সারা বছর প্রিয় এই ফলটি বিভিন্ন খাবার ও ডেজার্টে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আমের মৌসুমে সময় নষ্ট না করে আজই সংরক্ষণ করে রাখুন আপনার পছন্দের রসালো আম।
