ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটিতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কং পেইউ বলেছেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি বেইজিং সবসময় সমর্থন দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
চীন ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর এবং দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধে তিনি এ কথা বলেন।
কং পেইউ বলেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে পশ্চিম এশিয়া এখনো গুরুতর সংকটের মুখোমুখি।
তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে শুধু চীনের জনগণের কল্যাণ নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতির প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
‘ইরান-ইরাকের গভীর বন্ধন কোনো সীমান্ত বা শক্তি বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না’
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, ফিলিস্তিনি ১৪টি গোষ্ঠীর মধ্যে বেইজিং ঘোষণা স্বাক্ষর, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় শান্তি ও সংলাপের আহ্বানসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে চীন পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলটিকে যুদ্ধের ছায়া থেকে বের করে স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট শি এ বছরের এপ্রিলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উপস্থাপন করেছেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কং পেইউ বলেন, ইরানের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সবসময় ন্যায়সংগত ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছে। বেইজিং একতরফা আগ্রাসন, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের বিরোধিতা করেছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে।
তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশসহ আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
চীনা রাষ্ট্রদূত তার নিবন্ধে উল্লেখ করেন, আত্মনির্ভরশীলতা, ধারাবাহিক সংগ্রাম এবং দূরদর্শী নীতির মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
তিনি বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরাপত্তা ও সুশাসনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে চীনের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে কং পেইউ বলেন, চীনের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
