বুধবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ০৬ ডলার বা ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে এর দাম ৯৫ দশমিক ৪৭ ডলার পর্যন্ত ওঠে, যা গত ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৪৯ ডলার বা ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮৩ ডলারে পৌঁছায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাই তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ। টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথে মাইন পাতা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে।
এর পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে। এর পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী অ্যাসপিডেস সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। তাই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার ইতোমধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করেছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ২০ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪১১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনও তেলের দামকে ঊর্ধ্বমুখী রাখছে।
