ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না এবং গাজায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপও মেনে নেবে না বলে রবিবার মন্তব্য করেছেন হামাসের শীর্ষ নেতা খালেদ মেশাল। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবির বিরোধিতা করেন।
দোহায় এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেশাল বলেন, ‘প্রতিরোধ আন্দোলন, এর অস্ত্র এবং যারা তা পরিচালনা করেছে—সেগুলোকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘যত দিন দখল থাকবে, তত দিন প্রতিরোধ থাকবে।
দখলদারিত্বের অধীনে থাকা জনগণের জন্য প্রতিরোধ একটি অধিকার—যা জাতিগুলো গর্বের সঙ্গে ধারণ করে।’
খালেদ মেশাল এর আগে হামাসের নেতৃত্বে ছিলেন।
হামাস ইসরায়েলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে বলে তারা দাবি করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে এক প্রাণঘাতী সীমান্তপারের হামলা চালায় সংগঠনটি, যা সর্বশেষ যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বর্তমানে চলছে। এতে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণসহ গাজা ভূখণ্ডের সামরিকীকরণ প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
হামাস বারবার জানিয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো ফিলিস্তিনি শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে গাজায় হামাসের প্রায় ২০ হাজার যোদ্ধা এবং প্রায় ৬০ হাজার কালাশনিকভ রাইফেল রয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় দৈনন্দিন শাসনভার নেওয়ার লক্ষ্যে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নটি তারা আদৌ কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই কমিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে কাজ করছে। প্রথমে গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি ও যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন দেখভালের জন্য বোর্ডটির ধারণা দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে এর কার্যপরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে।
এতে সমালোচকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটি জাতিসংঘের বিকল্প এক কাঠামোতে পরিণত হতে পারে।
গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ডোনাল্ড ট্রাম্প বোর্ডটির ঘোষণা দেন। সেখানে প্রায় দুই ডজন দেশের নেতা ও কর্মকর্তা এর প্রতিষ্ঠা সনদে স্বাক্ষর করেন।
বোর্ড অব পিসের পাশাপাশি ট্রাম্প একটি গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডও গঠন করেছেন। এটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির জন্য একটি উপদেষ্টা প্যানেল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার, পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন।
খালেদ মেশাল রবিবার বোর্ড অব পিসকে তার ভাষায় একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে গাজার পুনর্গঠন এবং প্রায় ২২ লাখ বাসিন্দার কাছে সহায়তা পৌঁছনো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, হামাস ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘বিদেশি শাসন’ মেনে নেবে না।
মেশাল বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতীয় নীতিতে অটল এবং তত্ত্বাবধান, বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বা কোনো রূপে ম্যান্ডেট ফিরে আসার যুক্তি প্রত্যাখ্যান করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরাই ফিলিস্তিনিদের শাসন করবে। গাজা গাজার মানুষের এবং ফিলিস্তিনের। আমরা বিদেশি শাসন মেনে নেব না।’
